রামেক হাসপাতালে ভুয়া ‘কেমিস্ট’ আটক

সরকারি হাসপাতালের চত্বরে ভিড় ঠেলে সাধারণ রোগীদের অসহায়ত্বের সুযোগ নিচ্ছিল এক প্রতারক চক্রের সদস্য। নিজেকে ‘কেমিস্ট’ পরিচয় দিয়ে রোগীদের প্রলোভন দেখিয়ে বাইরের ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়াই ছিল তার কাজ। তবে দুপুরে এক অতর্কিত অভিযানে হাসপাতালের আনসার সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিতে পারেনি সে। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালের আউটডোর আলট্রাসনোগ্রাফি কক্ষের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।
দালাল ও প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি.কে. মাসুদ-উল ইসলামের নির্দেশনায় একটি বিশেষ যৌথ টহল টিম গঠন করা হয়। আনসার প্লাটুন কমান্ডারের নেতৃত্বে এই টিমে আনসার সদস্যরা টহল দেয় এবং পুলিশ সদস্যরা আলাদা টহলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
টহল দলটি যখন হাসপাতালের আউটডোর আলট্রাসনোগ্রাফি কক্ষের সামনে পৌঁছায়, তখন এক ব্যক্তির সন্দেহজনক আচরণ আনসার সদস্যদের নজরে আসে। ঐ ব্যক্তি সেখানে আলট্রাসনোগ্রাফি করার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সরল-সোজা রোগীদের টার্গেট করছিল। নিজেকে বড় কেমিস্ট দাবি করে সে রোগীদের অল্প খরচে ও দ্রুত পরীক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে হাসপাতালের বাইরে কোনো বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
রোগীদের সাথে তার কথোপকথন ও আচরণে সন্দেহ হওয়ায় আনসার টহল টিম তাৎক্ষণিক তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে এবং হাতেনাতে আটক করে।
আটকের পর হাসপাতাল চত্বরেই তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জেরার মুখে সে স্বীকার করতে বাধ্য হয় যে, সে কোনো কেমিস্ট বা চিকিৎসক নয়, বরং রোগীদের বিভ্রান্ত করাই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ এবং ভুক্তভোগী রোগীদের স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সেখানে উপস্থিত এক সেবাগ্রহীতা বলেন, হাসপাতালে এসে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ প্রায়ই এই ধরনের দালালদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারায়। আজ আনসার ভাইদের এই তৎপরতা সত্যিই প্রশংসনীয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও আনসার সদস্যদের এই পেশাদারিত্ব ও দ্রুত পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছে।
ভিওডি বাংলা/এফএ







