ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন বদলে দিল লুনা লায়লার জীবন

অভাব-অনটনের সংসার থেকে উঠে এসে স্বাবলম্বিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন পঞ্চগড়ের লুনা লায়লা। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও পারিবারিক সহযোগিতায় ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের মাধ্যমে তিনি এখন নিয়মিত আয় করছেন। ফলে বদলে গেছে তার পরিবারের জীবনযাত্রা।
জেলা শহরের পুরাতন বণিক সমিতি সড়কের বাসিন্দা লুনা লায়লার পরিবারে সদস্য পাঁচজন-স্বামী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে। স্বামীর সীমিত আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন ছিল, সেখানে সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগানো ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে থাকেননি তিনি; বরং স্বামীর পাশে দাঁড়িয়ে সংসারের হাল ধরার দৃঢ় সংকল্প নেন।
ঘরের কাজ ও সন্তানদের দেখাশোনার ফাঁকেই আয়ের পথ খুঁজছিলেন লুনা। এক পর্যায়ে পরিচিতজনের মাধ্যমে জানতে পারেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের পার্টনার প্রকল্পের আওতায় নারী ও যুবকদের জন্য ১২ দিনের অন-দ্য-জব প্রশিক্ষণের বিষয়টি। পরে স্বামী আবুল কালাম আজাদকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পঞ্চগড় কৃষি বিপণন কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন।
সেখানে নিজের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, বাবার বাড়ির পতিত জমিতে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করতে চান। তার আগ্রহ ও আন্তরিকতা বিবেচনায় কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মুআল্লেমা খানম তাকে প্রশিক্ষণের জন্য মনোনীত করেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রংপুরে এসএএফ ফাউন্ডেশনের অধীনে ১২ দিনের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন তিনি।
প্রশিক্ষণ শেষে ১২ হাজার টাকার ভাতা পান লুনা। সেই অর্থের সঙ্গে একটি এনজিও থেকে নেওয়া স্বল্প ঋণ যুক্ত করে বোদা উপজেলার মোন্নাপাড়া গ্রামে বাবার বাড়ির জমিতে মাত্র চারটি রিং দিয়ে শুরু করেন তার উদ্যোগ।
শুরুর দিকে মাসে ৫০০ থেকে ১ হাজার কেজি ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেন তিনি। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়িয়ে বর্তমানে সাতটি রিংয়ে মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করছেন। এর ফলে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে এবং সন্তানদের পড়াশোনা নিয়েও এখন অনেকটাই নিশ্চিন্ত তিনি।
লুনা লায়লা বলেন, “স্বামী এবং হাবিব অটো শোরুমের স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমানের উৎসাহ, আর কৃষি বিপণন কর্মকর্তার সহযোগিতা না পেলে হয়তো এতদূর আসতে পারতাম না। এখন আরও বড় পরিসরে কাজ করার স্বপ্ন দেখছি।”
তিনি আরও জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে উদ্যোগটি সম্প্রসারণের পাশাপাশি এলাকায় অন্যান্য নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চান।
কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মুআল্লেমা খানম বলেন, “লুনা লায়লা আমাদের পার্টনার প্রকল্পের একজন উদ্যমী প্রশিক্ষণার্থী। তিনি দ্রুত শিখে তা বাস্তবে প্রয়োগ করেছেন। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।”
ভিওডি বাংলা/এসআর







