ডিসেম্বরের মধ্যেই পায়রা বন্দর পূর্ণাঙ্গ চালু : সংসদে নৌপরিবহনমন্ত্রী

নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই পায়রা বন্দরকে পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মূল অবকাঠামো ও উন্নয়ন কাজ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সংসদে পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান পায়রা বন্দরের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করে, যা স্বাধীনতার পর দেশে সমুদ্রবন্দর নির্মাণের প্রথম উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০১৬ সালে ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হয়।
২০১৯ সালে বন্দরের প্রথম টার্মিনাল নির্মাণ এবং সড়ক ও সেতু সংযোগ উন্নয়নের দুটি বড় প্রকল্প নেওয়া হয়। আন্ধারমানিক নদীর ওপর চার লেনের সেতু এবং টার্মিনাল সংযোগ সড়ক প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে রাবনাবাদ চ্যানেলে পর্যাপ্ত গভীরতার অভাব এবং পলি জমার কারণে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের প্রয়োজন হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। এ জন্য নতুন ড্রেজার ক্রয় ও দীর্ঘমেয়াদি ড্রেজিং প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের অধিকাংশ সমুদ্রবাণিজ্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিচালিত হলেও ভবিষ্যতে পায়রা বন্দর বিকল্প ও কৌশলগত বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে বন্দরের জন্য হাজার হাজার একর জমি অধিগ্রহণ, আধুনিক টার্মিনাল, জেটি, গুদাম, কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা এবং ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া কাস্টমস, শিপিং সুবিধা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। বিভিন্ন সহায়ক জাহাজ সংগ্রহ ও অবকাঠামো উন্নয়ন কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ২০২৬ সালের মধ্যে বন্দরের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হবে এবং পরবর্তীতে এটি বড় জাহাজ পরিচালনায় সক্ষম হবে। তিনি বলেন, পায়রা বন্দর দেশের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলের শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভিওডি বাংলা/আ







