• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

মেসি সেরা, কিন্তু আমার বাবা ঈশ্বর:

ম্যারাডোনা জুনিয়রের আবেগঘন স্বীকারোক্তি

স্পোর্টস ডেস্ক    ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৯ এ.এম.
মেসিকে মানুষ হিসেবে সেরা মানলেও নিজের বাবাকে ঈশ্বর সমতুল্য ভাবেন ম্যারাডোনার ছেলে: ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা তারকা দিয়েগো ম্যারাডোনা আজ আর নেই, তবে তার জীবন, বিতর্ক আর মানবিক গল্প এখনও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এবার নতুন করে সামনে এল তার ব্যক্তিগত জীবনের এক আবেগঘন অধ্যায়, যা শোনালেন তার ছেলে দিয়েগো ম্যারাডোনা জুনিয়র। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার পর কীভাবে বাবার সঙ্গে তার সত্যিকারের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সেই সম্পর্ক তার জীবনে কীভাবে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

স্প্যানিশ টেলিভিশন শো ‘লা রেভুয়েলতা’-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনা জুনিয়র খোলামেলা কথা বলেন তার পারিবারিক জীবন নিয়ে। তিনি জানান, ২৯ বছর বয়সে তিনি প্রথমবারের মতো বাবার সঙ্গে সত্যিকারের সম্পর্ক অনুভব করেন। যদিও ১৭ বছর বয়সে তাদের একবার দেখা হয়েছিল, সেটি ছিল মাত্র ৪০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ, যা তাদের জীবনে কোনো স্থায়ী সম্পর্ক তৈরি করতে পারেনি।

অনুষ্ঠানের উপস্থাপক ও পরিচালক ডেভিড ব্রনকানো সাক্ষাৎকারের শুরুতেই মন্তব্য করেন, ‘কখনো ভাবিনি এই নামটা এখানে উচ্চারণ করব।’ এই বাক্যটি মুহূর্তেই পুরো আলোচনাকে আবেগঘন করে তোলে।   

১৯৮৬ সালে ইতালিতে জন্ম নেওয়া ম্যারাডোনা জুনিয়র তার শৈশব ও কৈশোর কাটিয়েছেন বাবার উপস্থিতি ছাড়াই। দীর্ঘদিন তিনি বাবার পরিচয় ও আলোচনার বাইরে বড় হয়েছেন। তবে বাবার মৃত্যুর পর থেকে তিনি নানাভাবে স্মরণসভা ও আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আসছেন। বর্তমানে তিনি নেপলসে বসবাস করছেন এবং ফুটবল কোচ হিসেবে কাজ করছেন।

তিনি জানান, গত বছর ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে (টেনেরিফে) প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় তিনি ‘লা রেভুয়েলতা’ অনুষ্ঠানটি নিয়মিত দেখতে শুরু করেন। অনুষ্ঠানটি এতটাই পছন্দ হয় যে তিনি নিজেই সেখানে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বাবাকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বাবার জীবন ছিল জটিল কিন্তু সুন্দর। তিনি ছিলেন সবচেয়ে বেশি আনন্দ উপভোগ করা মানুষ। কঠিন সময়ও কেটেছে, ভুল করেছেন, শাস্তি পেয়েছেন। কিন্তু কাউকে ক্ষতি করেননি।’

তিনি আরও বলেন, তার বাবার অর্জন নিয়ে তার গভীর বিশ্বাস রয়েছে। ম্যারাডোনা জুনিয়রের ভাষায়, বাবার আরও বড় সাফল্য পাওয়া উচিত ছিল। তিনি মন্তব্য করেন, ‘১৯৯০ ও ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’

ফুটবল সম্রাট লিওনেল মেসিকে নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘মেসির সঙ্গে আমার পরিচয় নেই, তার ঘনিষ্ঠজনরা চাননি। মানুষ হিসেবে মেসি নাম্বার ওয়ান। কিন্তু আমার বাবা ছিলেন একজন ঈশ্বর।’

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি একদিকে মেসির প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন, অন্যদিকে বাবার প্রতি তার অসীম ভালোবাসা ও সম্মান তুলে ধরেন।

বাবার সঙ্গে পুনর্মিলনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি জানান, ২৯ বছর বয়সে সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর তাদের যোগাযোগ আরও গভীর হয়। এর আগে দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকলেও বাবার উপস্থিতি তিনি সবসময় অনুভব করতেন। তিনি বলেন, ‘যখন সম্পর্ক ছিল না, তখনও মানুষ আমার কাছে এসে বাবার কথা বলত। তিনি সবসময় আমার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন। আজও তিনি সবচেয়ে উপস্থিত অনুপস্থিত ব্যক্তি।’

তিনি আরও যোগ করেন, মাঠে এবং মাঠের বাইরে বাবার উপস্থিতি তাকে সবসময় আনন্দ দিয়েছে। অল্প সময়ের যে সম্পর্ক তারা ভাগাভাগি করেছেন, সেটিই তার জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি।

সম্পর্ক পুনর্গঠনের গল্পও তিনি শেয়ার করেন। ম্যারাডোনা জুনিয়রের মতে, একবার তার একটি সাক্ষাৎকার টেলিভিশনে দেখে তার বাবা যোগাযোগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর তারা প্রথমবারের মতো ডিনারে মিলিত হন। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে বলি, আমি একটা স্বপ্নের মধ্যে আছি। অতীত নিয়ে কোনো কথা হয়নি, শুধু বর্তমান নিয়ে। এরপর থেকে আমাদের সম্পর্ক ভালো হয়ে যায়।’

মায়ের ভূমিকাও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘মা কখনো আমাকে মিথ্যা বলেননি, সবসময় সত্যি বলেছেন।’

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন জুনে
ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচন জুনে
চার ম্যাচ আগেই বুন্দেসলিগা শিরোপা আবারও বায়ার্নের
চার ম্যাচ আগেই বুন্দেসলিগা শিরোপা আবারও বায়ার্নের
আর্সেনালকে হারিয়ে শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে ম্যান সিটি
আর্সেনালকে হারিয়ে শিরোপা দৌড়ে এগিয়ে ম্যান সিটি