ফাঁদ পেতে ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইল, নারীসহ গ্রেফতার ২

ঘটনার শুরু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে। এক ব্যবসায়ীকে ফোন করেন পারভেজ নামের এক ব্যক্তি। পরিচিত রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তাকে ডাকা হয় রাজধানীর শেওড়াপাড়ার একটি শোরুমের সামনে। আলোচনার কথা বলে সেখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি বাসায়।
সরল বিশ্বাসে সেখানে গেলেও পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। বাসার একটি কক্ষে ঢোকার পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কথিত আলোচনার বদলে শুরু হয় হুমকি ও গালিগালাজ। প্রতিবাদ করলে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে জোর করে খাটে বসিয়ে রাখা হয়।
এরপর পরিকল্পনার মূল অংশটি কার্যকর করা হয়। সেখানে থাকা এক নারী নিজের পোশাক খুলে একই খাটে বসে পড়েন। সেই অবস্থায় জোরপূর্বক অন্তরঙ্গ মুহূর্ত তৈরি করে মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়।
এই ছবি ও ভিডিওকে হাতিয়ার বানিয়ে শুরু হয় ব্ল্যাকমেইল। ভুক্তভোগীর কাছে দাবি করা হয় ১০ লাখ টাকা। টাকা না দিলে এসব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ভয় ও চাপে পড়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে একাধিকবার টাকা নেওয়া হয়। এরপরও চলতে থাকে নতুন করে টাকার দাবি।
শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী মিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার সূত্র ধরে র্যাব-৪ গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে ১৬ এপ্রিল রাতে রাজধানীর মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকায় অভিযান চালিয়ে সালমা আক্তার (৩৫) ও মিজানুর রহমান কিরন (৪০)কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
ভিওডি বাংলা/এমআই/এসআর







