• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

হাম কেন হয়, কিভাবে ছড়ায় এবং প্রতিরোধের উপায় কি?

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২০ এ.এম.
ছবি : সংগৃহীত

দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে সংক্রামক রোগ হাম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানে অনিয়ম, জনসচেতনতার ঘাটতি এবং অপুষ্টির কারণে এর বিস্তার ঘটে। শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি হলেও, টিকা না নেওয়া প্রাপ্তবয়স্করাও সমানভাবে আক্রান্ত হতে পারেন। ফলে জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এটি মূলত শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে বাতাসে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশে থাকা অন্যদের শরীরে প্রবেশ করে। 
বিশেষজ্ঞরা জানান, হাম ভাইরাস বাতাসে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে, ফলে একই ঘরে অবস্থান করলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়।

চিকিৎসকদের মতে, টিকা না নেওয়াই হাম ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। যারা নিয়মিত টিকাদানের আওতায় আসেনি, তাদের মধ্যে এই রোগ দ্রুত ছড়ায়। এছাড়া অপুষ্টিতে ভোগা শিশু বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারা সহজেই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

হামের লক্ষণ সাধারণত সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে প্রকাশ পায়। প্রথমদিকে জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়। এরপর মুখের ভেতরে সাদা দাগ বা কপলিক স্পট দেখা দিতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ওঠে, যা ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে হাম গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এর মধ্যে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ এমনকি মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) উল্লেখযোগ্য। এসব জটিলতা শিশুদের ক্ষেত্রে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে এবং কখনো কখনো মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হয়।

হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে চিকিৎসকরা টিকাদানের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন। এমএমআর টিকা হাম প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রমাণিত।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়ে শিশুদের এই টিকা প্রদান করলে প্রায় ৯৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব।

এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত আলাদা রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সংক্রমণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণও হাম প্রতিরোধে সহায়ক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে শিশুদের সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। তবে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা প্রদান করা হয়। জ্বর কমানোর ওষুধ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাম নিয়ন্ত্রণে সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে এই রোগ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

সার্বিকভাবে বলা যায়, হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও অবহেলা করলে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই সময়মতো টিকাদান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিই পারে এই রোগ থেকে দেশকে নিরাপদ রাখতে।

ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/এসআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
শিশুদের জন্য আমরা একটি সুস্থ ও নিরাপদ দেশ চাই
হাবিবুর রশিদ হাবিব শিশুদের জন্য আমরা একটি সুস্থ ও নিরাপদ দেশ চাই
প্রতিটি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
প্রতিটি শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনা হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ত্রাণমন্ত্রী এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি
ত্রাণমন্ত্রী এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি