এশিয়ার জ্বালানি সংকটে ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা ঘোষণা জাপানের

রানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় এশিয়ার কয়েকটি দেশকে ১০ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাপান। এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিগুলো।
বুধবার এশীয় নেতাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠক শেষে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা এখন সবচেয়ে জরুরি।
জাপানের এই সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়া সরাসরি উপকৃত হবে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে-অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানি সহজ করা, সরবরাহ চেইন সচল রাখা এবং তেলের কৌশলগত মজুত বাড়ানো।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো বছরে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, ঘোষিত এই তহবিল প্রায় তার সমপরিমাণ সমর্থন দিতে সক্ষম। ফলে সংকটকালীন সময়ে এসব দেশের জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলোর নেতারা জাপানের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, চলমান অনিশ্চয়তার মধ্যে এটি আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই সহায়তার অর্থায়নে জাপানের কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মধ্যে রয়েছে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন, নিপ্পন এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ইনস্যুরেন্স, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, এই উদ্যোগে দেশটির নিজস্ব জ্বালানি সরবরাহে কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানের কাছে প্রায় ২৫৪ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো তেলের মজুত ছিল। তবে সাম্প্রতিক সংকটের কারণে সেই মজুত থেকে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়তে হয়েছে।
গত মাসে জাপান রেকর্ড পরিমাণ-প্রায় ৫০ দিনের সমপরিমাণ তেল বাজারে সরবরাহ করে। এছাড়া মে মাসের শুরুতে আরও ২০ দিনের সমপরিমাণ তেল ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমান জ্বালানি সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের জেরে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক পথ দিয়ে বৈশ্বিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি পরিবহন করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পথ দিয়ে পরিবাহিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এশিয়ার দেশগুলোতে যায়। ফলে প্রণালিটি বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েছে এশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা।
সংকট শুরুর আগে প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। ব্যস্ত সময়ে প্রতি কয়েক মিনিট পরপর জাহাজ চলাচল দেখা যেত। তবে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার পর বর্তমানে এই পথ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







