করিমগঞ্জে খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

করিমগঞ্জ উপজেলা-এর সুতারপাড়া ইউনিয়ন-এর উত্তর গণেশপুর খেয়াঘাট ইজারা নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের ৭ জন নির্বাচিত সদস্য একযোগে ইজারা বাতিল করে নতুন করে উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ইজারা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগও জমা দিয়েছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন ইউপি সদস্য জসিম, হারুন মিয়া, রোস্তম, মো. মোতালেব মিয়া এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য আলফিনা আক্তার, মুক্তা আক্তার ও মাহমুদা তাসলিমা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘাটটির বর্তমান ইজারার মেয়াদ শেষ হবে ৩১ চৈত্র ১৪৩২। আগে প্রতি বছর উন্মুক্ত দরপত্র ও সভার মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হলেও এবার সেই নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ইজারার মূল্য নির্ধারণ নিয়ে। গত বছর যেখানে মূল্য ছিল ১৯ হাজার ৮০০ টাকা, সেখানে এবার তা বাড়িয়ে মাত্র ১৯ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে—অর্থাৎ এক বছরে মাত্র ১০০ টাকা বৃদ্ধি, যা অস্বাভাবিক বলে দাবি করা হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মালিক তানভীর হোসেন কোনো সভা আহ্বান না করেই এবং অধিকাংশ সদস্যকে না জানিয়ে গত ১২ এপ্রিল ইজারা প্রদান করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এই খেয়াঘাটের ইজারা প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী চক্রের দৌরাত্ম্য ও অনিয়ম চলছে। কম দামে ইজারা নিয়ে পরে তা কয়েক লাখ টাকায় অন্যদের কাছে হস্তান্তর করার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন এই ঘাট থেকে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়।
সংরক্ষিত নারী সদস্য মাহমুদা তাসলিমা অভিযোগ করেন, কোনো সভায় তাদের ডাকা হয়নি এবং বিষয়টি গোপনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, তাকে স্বাক্ষরের জন্য ৭০ হাজার টাকা অফার করা হয়েছিল, তবে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অন্যদিকে মুক্তা আক্তার বলেন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় সরকার ও ইউনিয়ন পরিষদ উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউপি সদস্য জসিম ও হারুন মিয়া দ্রুত ইজারা বাতিল করে পুনরায় উন্মুক্ত নিলামের দাবি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা মুমতাজ পাটনী দাবি করেন, তিনি ১০ লাখ টাকায় ইজারা নিতে আগ্রহী ছিলেন, কিন্তু তাকে নিলাম প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রশাসক মালিক তানভীর হোসেন। তার দাবি, পাঁচজন আবেদনকারীর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং সব সদস্যকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল।
এ বিষয়ে করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে মুসলিমা জানান, কয়েকজন সদস্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে শুনানির পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভিওডি বাংলা/মোঃ ওমর সিদ্দিক রবিন/আ







