চলতি বছরের মধ্যেই তেলের তীব্র সংকটের আশঙ্কা

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান ও ইসরায়েল বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধের ধাক্কায় চলতি বছরের মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের বড় ধরনের ঘাটতি (মার্কেট ডেফিসিট) তৈরি হতে পারে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্সের এক বিশেষ বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেলের বাজারে বর্তমানে যে সাময়িক স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে, তা যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবে দ্রুতই বিলীন হয়ে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা বা পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ রুটে (হরমুজ প্রণালী) বিঘ্ন ঘটলে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাবে।
বাজার বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, বর্তমানে ওপেক প্লাস (OPEC+) দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও যুদ্ধের ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। যদি সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময়ের জন্য বাধাগ্রস্ত হয়, তবে ২০২৬ সাল নাগাদ বাজারে তেলের চাহিদার তুলনায় জোগানে ব্যাপক ঘাটতি দেখা দেবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা কেবল সাময়িক দাম বৃদ্ধি নয়, বরং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী ভীতি সঞ্চার করেছে। ২০২৬ সালের জন্য যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুদ দ্রুত কমে আসবে। বিশেষ করে চীন ও ভারতের মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলো জোগান নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে পারে।
জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ ও উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি দ্রুত কূটনৈতিক উপায়ে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমন না করা যায়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি এক গভীর সংকটের মুখে পড়বে।
উল্লেখ্য, ইরানের তেলের বাজার ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর যে কোনো আঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৬ সালের সেই সম্ভাব্য ‘মার্কেট ডেফিসিট’ এড়াতে এখন থেকেই বিকল্প জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভিওডি বাংলা/সম্রাট







