সংসদ থেকে বিরোধী দলের ফের ওয়াকআউট

জাতীয় সংসদের অধিবেশন থেকে আবারও ওয়াকআউট করেছে বিরোধী দল। বিল পাসের প্রক্রিয়ায় অনাস্থা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্ত নেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ৩৭ মিনিটে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬’ পাসের পর তিনি বিরোধী দলীয় সদস্যদের নিয়ে অধিবেশন ত্যাগ করেন। চলতি সংসদ অধিবেশনে এটি বিরোধী দলের চতুর্থ ওয়াকআউট।
বিরোধী দলের অভিযোগ, সংসদের বিশেষ কমিটিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলো নিয়ে যে সমঝোতা হয়েছিল, সরকার তা অনুসরণ করেনি। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট বিলটি হুবহু পাসের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও অধিবেশনে একাধিক সংশোধনী এনে পরিবর্তিত আকারে পাস করা হয়েছে।

ওয়াকআউটের সময় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দুঃখজনক পরিস্থিতির কারণে তারা সংসদ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি সরকারি দলের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তোলেন এবং স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে কোনো বিলের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দেওয়ার আগে বিষয়টি বুঝে নেওয়া জরুরি। কিন্তু বাস্তবে বিল পাসের সময় প্রয়োজনীয় নথিপত্র সময়মতো সরবরাহ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি বোঝার সুযোগ পাননি তারা।
তার দাবি, নিয়ম অনুযায়ী অন্তত তিন দিন আগে বিলের কপি দেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। এমনকি বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে এক দিন আগে দেওয়ার যে নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল, তাও কার্যকর হয়নি। বিল পাসের সময় টেবিলে নথি দেওয়া হলে তা দ্রুত পড়ে বোঝা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি না বুঝে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেওয়া উভয়ই দায়িত্বজ্ঞানহীনতার শামিল। এ কারণেই তারা ভোটদানে বিরত থেকেছেন এবং শেষ পর্যন্ত ওয়াকআউটের পথ বেছে নিয়েছেন।
এ সময় তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, সরকারি দলের সদস্যরা হয়তো দ্রুত নথি বুঝে নিতে সক্ষম হয়েছেন, কিন্তু বিরোধী দল তা পারেনি-এটা তাদের সীমাবদ্ধতা।
অন্যদিকে, বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে বিলগুলো পর্যালোচনার সময় বিরোধী দলের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে পাসের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তাই বিল পাসের পর এ ধরনের আপত্তি তোলা যৌক্তিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভিওডি বাংলা/জা







