সিটি নির্বাচনে দল-মতের ঊর্ধ্বে এলাকাবাসীর ঐক্য চান আবদুস সালাম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম আসন্ন সিটি নির্বাচনে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকাবাসীর ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ায় এবার এলাকার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
একই সঙ্গে রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর মতিঝিলের ফকিরাপুল এলাকায় ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, আমাদের প্রিয় নেতা, সাবেক মেয়র ও সাবেক মন্ত্রী, নির্বাচিত সংসদ সদস্য জননেতা মির্জা আব্বাস খুব অসুস্থ ছিলেন। তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে গিয়েছেন। আল্লাহর রহমতে তিনি এখন ভালোোর দিকে আছেন। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে আনেন।
মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকার সন্তান হিসেবে সামনে একটি বড় সুযোগ এসেছে। আমি মেয়র হওয়া মানে আপনারাই হওয়া। এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে দল-মত ভুলে এলাকাবাসী হিসেবে সবাইকে নির্বাচন করতে হবে। এর আগে কমিশনার, কাউন্সিলর ও চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি-তখনও দল-মত নির্বিশেষে সবাই আমাকে সমর্থন করেছে।
তিনি বলেন, সংসদে নতুন আইন পাস হওয়ায় এবার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে না। এতে নিরপেক্ষভাবে সবাই অংশ নিতে পারবেন। আমি বিশ্বাস করি ফকিরাপুল, আরামবাগ ও পল্টন এলাকার মানুষ এই নির্বাচনে দল নয়, এলাকার উন্নয়নকে গুরুত্ব দেবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে সুযোগ দিয়েছেন উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, এলাকাবাসীকে এখন থেকেই ঘরে ঘরে প্রচারে নামতে হবে। ঢাকা বড় শহর-৭৫টি ওয়ার্ড। আমাকে বিভিন্ন এলাকায় যেতে হবে। কিন্তু ফকিরাপুলের ঘরে ঘরে আপনারাই যাবেন। আপনারা সবাই আমার আত্মীয়, সুখে-দুঃখে আমরা একসঙ্গে আছি।
এলাকার উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, রাস্তাঘাট সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত প্রকৌশলীদের দিয়ে এস্টিমেট প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজেদের এলাকা পরিষ্কার রাখতে হবে এবং রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে সহযোগিতা করতে হবে।
যুবকদের উদ্দেশে আবদুস সালাম বলেন, আমরা যখন যুবক ছিলাম, ড্রেন পরিষ্কার করেছি, সামাজিক কাজ করেছি। এখন তোমাদের এগিয়ে আসতে হবে। তোমরাই ভবিষ্যতের কর্ণধার। এমন কাজ করে যেতে হবে যাতে মানুষ স্মরণ করে।
রাজধানীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পানি নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হওয়ায় বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীতে পানি যাওয়ার ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। ড্রেন বন্ধ, খাল ভরাট ও পলিথিনের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
প্রশাসক বলেন, “আমি যদি মেয়র হই, দুই দিনে সব ঠিক করতে পারব-এটা বলব না। কিন্তু দুই-তিন বছর সময় পেলে অনেক কিছু করা সম্ভব। প্রশাসক থাকাকালীন অন্তত দুইটি বিষয় নিশ্চিত করতে চাই-আবর্জনা পরিষ্কার হবে এবং সড়কের লাইট জ্বলবে। কেউ কাজ না করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যুবকদের চাঁদাবাজি ও অন্যায় থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সুযোগ পেলে তরুণদের কাজ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। “আমি আগে ডেপুটি মেয়র থাকাকালীন এভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। এবারও সুযোগ পেলে সবাইকে নিয়ে কাজ করব-ইনশাআল্লাহ।”
ভিওডি বাংলা/জা







