• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

পহেলা বৈশাখ:

সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে ৪শ’ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪৮ পি.এম.
চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ: ছবি-ভিওডি বাংলা

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী খাবার পান্তা-ইলিশকে ঘিরে বাড়ছে চাহিদা, পহেলা বৈশাখ আসতে এখনও প্রায় এক সপ্তাহ বাকি থাকলেও রাজধানীর মাছের বাজারে এরইমধ্যে উৎসবের আমেজ স্পষ্ট। তবে সরবরাহ কম থাকায় ইলিশের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আকারভেদে কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন চাপে, আর অনেকের কাছেই বৈশাখের ঐতিহ্য এখন বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মহাখালী কাঁচা বাজার, শ্যামবাজার ও আফতাবনগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বড় আকারের ইলিশের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০০ থেকে ৩২০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ২৫০০ থেকে ২৮০০ টাকার মধ্যে। একইভাবে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৬০০ থেকে ২৮০০ টাকায়।

৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি এখন ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা, যা সপ্তাহখানেক আগে ছিল প্রায় ২১০০ থেকে ২২০০ টাকার মধ্যে। ছোট আকারের ইলিশের ক্ষেত্রেও দাম কম নয়। ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায়, কোথাও কোথাও ২২০০ টাকাও চাওয়া হচ্ছে। আর ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রামের ইলিশের কেজি এখন ১৪০০ থেকে ১৬০০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগেও ১২০০ টাকার মধ্যে ছিল।

 বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ কম থাকাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বছর জেলেরা জালে পর্যাপ্ত মাছ পাচ্ছেন না। নদী ও উজান এলাকায় ইলিশের উপস্থিতি কম, পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান অভিযানের প্রভাবও পড়ছে সরবরাহে। ফলে বাজারে মাছ কম আসছে, আর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দামও বাড়ছে।

কারওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী শুকুর আলী বলেন, “জেলেরা এখন খুব বেশি মাছ পাচ্ছে না, তাই বাজারে আমদানিও কম। সরবরাহ বেশি থাকলে আমরা কম দামে বিক্রি করতে পারতাম। বৈশাখ এলেই চাহিদা বাড়ে, কিন্তু এ বছর আমদানি কম থাকায় আগেভাগেই দাম বেড়ে গেছে।”

মহাখালী কাঁচা বাজারের মাছ বিক্রেতা ও শামীম মৎস্য ট্রেডার্সের কর্নধার মো. শামীম হোসেন বলেন, “মাত্র এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। পহেলা বৈশাখ যত ঘনাবে, দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা আছে। আমরা বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছ আনি, কিন্তু এ বছর সরবরাহ তুলনামূলক কম। আগে এখানে কয়েকজন ইলিশ বিক্রি করতেন, এখন বেশি দামের কারণে অনেকে মাছ আনছেন না। তবে বৈশাখের দুই-তিন দিন আগে বাজারে মাছ কিছুটা বাড়তে পারে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতিও তুলনামূলক কম। তবে উৎসব ঘনিয়ে এলে ক্রেতা ও সরবরাহ-দুটোই কিছুটা বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে, দাম বৃদ্ধিতে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। ধানমন্ডি থেকে কারওয়ান বাজারে মাছ কিনতে আসা সেলিনা বেগম বলেন, “প্রতি বছরই আমরা বৈশাখের কয়েকদিন আগে ইলিশ কিনি। কিন্তু এবার পছন্দমতো মাছও পাচ্ছি না, আবার দামও অনেক বেশি। কেজিতে ৩০০-৪০০ টাকা বেশি নিচ্ছে। বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে কিনা, সেটাও সরকারকে খতিয়ে দেখা উচিত।”

গুলশান থেকে আসা রকিফুল ইসলাম বলেন, “অফিসের জন্য মাছ কিনতে এসেছি। ৮০০ গ্রাম ওজনের পাঁচ কেজি ইলিশ কিনলাম ২৪০০ টাকা কেজি দরে। প্রতি বছরই বৈশাখে মাছ কিনতে হয়, কিন্তু এবার দাম অনেক বেশি মনে হচ্ছে। বাজারে সরবরাহও কম মনে হয়েছে।”

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বুধবার অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের দুই জাহাজ বন্দরে ভিড়ছে
বুধবার অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের দুই জাহাজ বন্দরে ভিড়ছে
ব্যবসা মূল বাধা মূলধন, পরিচালনায় ৮ সমস্যা
ব্যবসা মূল বাধা মূলধন, পরিচালনায় ৮ সমস্যা
মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন আসছে চট্টগ্রাম বন্দরে
মালয়েশিয়া থেকে ২৬ হাজার টন অকটেন আসছে চট্টগ্রাম বন্দরে