৮ ব্যাংক অর্থ পাচারের ফলে অচল: পানিসম্পদ মন্ত্রী

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে ব্যাপক লুটপাট ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের সাত থেকে আটটি ব্যাংকের কার্যক্রম প্রায় স্থবির অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণে আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রায় ১৫ কোটি টাকা একটি ইউনিয়ন ব্যাংকে আটকে আছে। সেই অর্থ আদৌ উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ্যানি চৌধুরীর ভাষায়, এটি শুধু একটি ব্যাংকের সমস্যা নয়; লুটপাট ও অর্থ পাচারের কারণে আরও কয়েকটি ব্যাংক একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের দায়িত্ব নেওয়ার সময় কঠিন। এই সময় পার করাও সহজ নয়। এজন্য সবার আন্তরিকতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।” মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ জনগণকে একসাথে কাজ করতে হবে যাতে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা যায়।
মেগা প্রজেক্ট ও দুর্নীতির প্রসঙ্গও টেনে এ্যানি চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের প্রকৃত সুবিধাভোগী সাধারণ মানুষ নন। বরং প্রকল্পগুলোতে বড় আকারের দুর্নীতি হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এক হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে দশ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মন্ত্রী মনে করেন, এসব দুর্নীতি দেশের অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে এ্যানি চৌধুরী বলেন, “জেলা পরিষদ, পৌরসভা, পুলিশ প্রশাসন, সিভিল প্রশাসন, সড়ক বিভাগ বা এলজিইডি-যেখানে দুর্নীতি হোক না কেন, সংশ্লিষ্টদের দায় নিতে হবে। কেউ সরকারি কর্মকর্তা হোক বা রাজনৈতিক ব্যক্তি, দুর্নীতিতে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি নিশ্চিত করেন, সরকার এ বিষয়ে সম্পূর্ণ সচেতন এবং প্রধানমন্ত্রীও সতর্ক রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবুর নেতৃত্বে বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, জেলা জামায়াতের আমির এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান, বাফুফের সহসভাপতি ওয়াহিদ উদ্দীন চৌধুরী হ্যাপী এবং স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।
ভিওডি বাংলা/জা







