• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

সাহাবুদ্দিনে আপত্তি

নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগে চাপ বাড়াবে জামায়াত

রুদ্র রাসেল    ২২ মার্চ ২০২৬, ১০:৪১ পি.এম.
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোগো। ছবি: কোলাজ

অন্তবর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ পেরিয়ে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের মেয়াদেও এখন পর্যন্ত টিকে যাওয়া রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে সরকার দল নীরব থাকলেও বিরোধী দল জামায়াত তাকে অপসারনের সিদ্ধান্ত বদলাবে না। দলের স্পষ্ট ভাষ্য, ‘ব্যক্তি সাহাবুদ্দিনে আপত্তি আছে।’ 

ক্ষমতা গ্রহণের এক মাসেও এ বিষয়ে সরকার দল বিএনপিতে, সংসদে আলোচনা না থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগে সরকারের ওপর নানান দিক থেকে চাপ বাড়াতে ঈদের ছুটি শেষে রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামের, উচ্চ সারির একজন নেতা ভিওডিবাংলার সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন।  

তার ভাষ্য, ‘আওয়ামী লীগকে নামাতে বিএনপির তৎকালীন দাবির সঙ্গে একমত হয়ে রাজপথে ভূমিকা রাখে জামায়াত। এরপর পরিবর্তন এসেছে। অন্তবর্তীকালীন সরকার না হয় সাংবিধানিক জটিলতা বা রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং তা জামায়াত মেনে নিয়েছিল। কিন্তু এখন তো সংসদ বসেছে। নতুন সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনাও হলো, সব ধরনের রীতি রেওয়াজ ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার পালন করে রাজনৈতিক সম্প্রীতি দেখানো হলো- কিন্তু আমাদের আপত্তি যে ব্যক্তি সাহাবুদ্দিনের ওপর- তাকে ইমপিচমেন্ট বা অপসারণ প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে কোনো আলোচনা নেই সরকার দলের নেই। ’ 

জামায়াতের লক্ষ্য হচ্ছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি পদে পূর্ণ মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত পার হতে দিবে না। সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি রেওয়াজ মেনে দ্রুত নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাগাদা দিয়ে আসা জামায়াত ঈদের ছুটি শেষেই সরকারের ওপর চাপ বাড়াবে।  

জামায়াত তাদের মিত্রদের নিয়ে এই ইস্যুতে সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব তোলা, রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের ওপর ভেতর ও বাহির থেকে উভয়মুখি চাপ বৃদ্ধি করা ছাড়া বিকল্প দেখছে না। দলটি সংসদের চলমান প্রথম অভিবেশনে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ, গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়গুলোতে জোর দিতে চায় এবং এই দাবিগুলোর পক্ষে জনগনকেও সম্পৃক্ত করে একপর্যায়ে প্রয়োজনে বড় আন্দোলনে রূপ দিয়ে সরাতে চায় সাহাবুদ্দিনকে। 

দলটির এমন রাজনৈতিক মোকাবেলার সিদ্ধান্তের বিষয়ে রোববার সিলেটে অনেকটা স্পষ্ট করেছেন জামায়াতের আমীর বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ফ্যাসিবাদের একটি বড় অংশ বিদায় নিলেও প্রভাব রয়ে গেছে মন্তব্য করে রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি প্রতিষ্ঠানের প্রতি কোনো আপত্তি নেই, তবে ব্যক্তিকে নিয়ে আপত্তি রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 

সংবিধান সংশোধন বিষয়ে বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই সংবিধান পরিবর্তন হয়ে থাকে। তাই নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সংবিধান সংশোধন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে রাজনৈতিকভাবে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল ৫ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। কোনো ব্যত্যয় না ঘটলে ২০২৮ সালের ২৪ এপ্রিল তার মেয়াদ পূর্ণ হবে। তবে সংসদ চাইলে রাষ্ট্রপতিকে পদ্ধতি মেনে ইমপিচমেন্ট বা অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। 

তবে বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ বা পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলমান আছে। কেউ বলছেন, তারেক রহমান অহিংস রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী। সেই দৃষ্টিকোন থেকে জামায়াত মনে করছে, কোনো পক্ষ চাপ না বাড়ালে পতারেক রহমান বা বিএনপি রাষ্ট্রপতিকে অপসারণে উদ্যোগ নেবে না।

ভিওডি বাংলা/আরআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ঢাকার ভোটার স্থানান্তরে ‘অস্বাভাবিক’ হিড়িক, সিটি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ?
ঢাকার ভোটার স্থানান্তরে ‘অস্বাভাবিক’ হিড়িক, সিটি নির্বাচনে নতুন সমীকরণ?
ফুটপাত থেকে অপরাধ জগতে
‘বার্গার বাবু’র উত্থান ফুটপাত থেকে অপরাধ জগতে
সলিমপুর অভিযানে কী ব্যবহার করেছিল আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী
সলিমপুর অভিযানে কী ব্যবহার করেছিল আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী