হাদি হত্যা
সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে ফয়সাল বলল, ‘হাদি জামায়াতের প্রোডাক্ট’

ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে কলকাতার আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা যে হাদি হাদি করছেন, বাংলাদেশের মানুষ যে হাদি হাদি করছে, হাদি তো জামায়াতের প্রোডাক্ট।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জড়তে না, এ কাজ আমি করিনি, হাদি হত্যা জামায়াত-বিএনপির চাল হতে পারে।’
রোববার (২২ মার্চ) কলকাতার আদালত প্রাঙ্গনে তার এ বক্তব্য আসায় নতুন একটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে যে, হাদি হত্যাকান্ডে আইনি পদক্ষেপের এই পর্যায়ে এসে আসামি ফয়সল যে দাবি তুলছেন- সেটিই কি সত্যি যে ফয়সল জড়িত নন? না কি এ বক্তব্য অপরাধ করে পার পাওয়ার কোনো সাজানো ছক?
এছাড়া ইনকিলাব মঞ্চ তাদের সবশেষ সংবাদ সম্মেলনে হাদি হত্যকান্ডে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ওপর যে সন্দেহ ছুড়ে দিয়েছে- সেটি হত্যাকন্ডেটির সত্য উদঘাটনে নতুন জটিলতা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।
এদিকে হাদি হত্যায় কলকাতায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার তিনজনকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে ওই দেশের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে বলে আজ জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম। ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হাদি হত্যা মামলার বর্তমান তদন্তকারী সিআইডি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে আসামিদের দেশে আনার প্রক্রিয়া সফল করতে।’
১৪ দিন রিমান্ড শেষে আজ ওসমান হাদির হত্যা মামলার প্রধান দুই আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় আদালতে তোলা হয়।
গত ৮ মার্চ ফয়সাল ও আলমগীরকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ)। তারা দুজন অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁয় আত্মগোপন করেছিলেন। সুযোগ বুঝে ফের তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টার অপেক্ষায় ছিলেন বলে জানায় এসটিএফ সূত্র।
আজ আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকরা ফয়সালকে হাদি হত্যার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। আমি এ ধরনের কোনো কাজে ছিলাম না।’ হাদি হত্যাকাণ্ডের সময় আপনি বাংলাদেশে ছিলেন কি না, এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, ছিলাম।’
ভিওডি বাংলা/আরআর







