প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই:
কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধনে আবদুস সালাম

প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণই দক্ষ জনবল তৈরির সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে মন্তব্য করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম।
শনিবার (১৪ মার্চ) স্বল্পমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়-ডাক্তাররা ডাক্তারি পাস করলেও বাস্তবে চিকিৎসা দিতে পারেন না, আবার ইঞ্জিনিয়াররা ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেও বাস্তব কাজে দক্ষতা দেখাতে পারেন না। দীর্ঘদিন ধরে সঠিকভাবে পড়াশোনা না হওয়া এবং নকলের সংস্কৃতির কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কোনো বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা ও পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান না থাকলে সেই বিষয়ে ভালো ফল দেওয়া সম্ভব নয়।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন চিফ ইঞ্জিনিয়ার বা সুপার ইঞ্জিনিয়ার দীর্ঘদিন কাজ করতে করতে বাস্তব অভিজ্ঞতায় দক্ষ হয়ে ওঠেন।
তিনি বলেন, কর্পোরেশনের যান্ত্রিক বিভাগের সুপার ইঞ্জিনিয়ার আনিস দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং অভিজ্ঞতার মাধ্যমে একজন দক্ষ বিশেষজ্ঞে পরিণত হয়েছেন। কর্মচারীরা যদি তাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা গ্রহণ করতে পারেন, তাহলে তারাও দক্ষ হয়ে উঠবেন।
তিনি আরও বলেন, অনেক সময় দেখা যায় একজন ফোরম্যান মাঠে কাজ করার কারণে বাস্তব অভিজ্ঞতায় অনেক বেশি দক্ষ হয়ে ওঠেন। তাই যান্ত্রিক বিভাগে কাজ করার পাশাপাশি শেখার সুযোগও রয়েছে।
আবদুস সালাম বলেন, কর্পোরেশনের সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় সাত শতাধিক গাড়ি, যানবাহন ও যান্ত্রিক সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয়। এসব যানবাহন দক্ষ ও নিরাপদভাবে পরিচালনার জন্য চালক ও মেকানিকদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিন আগে একটি গার্বেজ ট্রাক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। পরে দেখা যায়, গাড়িটি যে চালাচ্ছিল তিনি প্রশিক্ষিত ড্রাইভার ছিলেন না। এ ধরনের ঘটনা কখনোই হওয়া উচিত নয়, কারণ এটি জীবন-মরণের বিষয়। অপ্রশিক্ষিত কারও হাতে এ ধরনের দায়িত্ব দেওয়া নিজের ও অন্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, যান্ত্রিক সার্কেলের উদ্যোগে কর্পোরেশনের নিজস্ব কারিগরি জনবল ও দক্ষতা ব্যবহার করে কোনো আর্থিক ব্যয় ছাড়াই এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে, যা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তিনি ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, মানুষ অবসর নিয়ে চলে গেলেও যদি ভালো কাজ করে যায়, তবে সেই কাজ দীর্ঘদিন মানুষের মনে থাকে। তাই সিনিয়র কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যত বেশি শেখা যাবে, ততই কর্মজীবনে সাফল্য আসবে।
আবদুস সালাম আরও বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ উদ্যোগ বেকার যুবকদের জন্যও চালু করা গেলে তা সমাজের জন্য উপকারী হবে। তাদের দক্ষ করে তোলা গেলে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং কর্পোরেশনের সেবা কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের সনদ প্রদান করা হবে, যা তাদের চাকরি ও পেশাগত জীবনে সহায়ক হবে।
পরে স্বল্পমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মশালা-২০২৬ এর প্রথম ব্যাচে অংশগ্রহণকারী ১৭ জন চালক ও মেকানিককে অভিনন্দন জানিয়ে কর্মশালার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি।
ভিওডি বাংলা/জা







