সলিমপুরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ৩ হাজার সদস্যের অভিযান, আাটক ১২

চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড মডেল থানাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র মজুদ, পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি, অপরাধীদের আশ্রয়স্থল তৈরি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে শুরু হওয়া যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান শেষ হয়েছে সন্ধ্যায়। ওই আস্তানা থেকে ১২ জনকে আটক করার তথ্য জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। অভিযান শেষে জনসাধারণেল নিরাপত্তায় দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।
অভিযানে সেনাবাহিনীর সদস্যসহ মোট ৩ হাজার ১৮৩ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও ৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযানে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং সার্বিক পরিস্থিতি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম পুলিশ।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ। অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন সরেজমিনে থেকে সার্বিক অভিযান তদারকি ও দিকনির্দেশনা দেন।
ভোর থেকে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা জঙ্গল সলিমপুর এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম স্থানে একযোগে অবস্থান গ্রহণ করে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেন। সন্দেহভাজন আস্তানা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, পাহাড়ি পথ, গোপন স্থাপনা এবং অপরাধীদের সম্ভাব্য অবস্থানসমূহে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মোট ১২ জনকে আটক করেন। তাদের বিষয়ে যাচাইবাছাই করা হচ্ছে।
তল্লাশিকালে আগ্নেয়াস্ত্র ২টি (পিস্তল ০১টি ও এলজি ০১টি), কার্তুজ ৪টি, ককটেল (বিস্ফোরক) ১১টি, দেশীয় অস্ত্র ১৭টি, সিসি ক্যামেরা ১৯টি, ডিভিআর ২টি, পাওয়ার বক্স ১টি ও একটি বাইনোকুলার পাওয়ার তথ্য প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এসব অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি-উপকরণ এলাকায় নজরদারি স্থাপন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষসেহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা হতো।
অভিযান শেষে জঙ্গল সলিমপুর ছিন্নমূল ও আলীনগর এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ বন্ধ করা এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২টি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।







