জেলে থেকেও ছুটির চেষ্টা, শিক্ষকের বিরুদ্ধে জাল প্রেসক্রিপশনের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় স্ত্রীর করা যৌতুক মামলায় কারাগারে থাকার পরও ভুয়া চিকিৎসা প্রেসক্রিপশন তৈরি করে ছুটি নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়ন এলাকার বাগুলাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়–এর সহকারী শিক্ষক। তার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলার ধুলিয়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি কুমারখালীর দমদমা গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নারী নির্যাতন ও যৌতুক মামলায় তিনি কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ভুয়া মেডিকেল প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসমা খাতুন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে এক মাসের ছুটি মঞ্জুরের জন্য কাগজপত্র প্রস্তুত করে উপজেলা প্রশাসনে জমা দেন।
প্রেসক্রিপশনে চিকিৎসক হিসেবে ডা. মো. আহসান হাবিব–এর নাম ব্যবহার করা হয়। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই চিকিৎসকের স্বাক্ষর ও প্রেসক্রিপশন জাল করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের স্ত্রী নাজমুন্নাহার (বিউটি) জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলায় গত ১১ জানুয়ারি আশরাফুল ইসলাম গ্রেপ্তার হন এবং ১ ফেব্রুয়ারি জামিনে মুক্তি পান। তিনি বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় কীভাবে তিনি ছুটি নিতে পারেন, সেটি প্রশ্নবিদ্ধ। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে চিকিৎসক ডা. মো. আহসান হাবিব বলেন, আশরাফুল ইসলাম নামে কোনো রোগীকে তিনি এ ধরনের রিপোর্ট দেননি। তিনি সবসময় কম্পিউটারে টাইপ করা প্রেসক্রিপশন দেন এবং জমা দেওয়া রিপোর্টটি জাল বলে দাবি করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসমা খাতুন বলেন, আশরাফুল ইসলাম কারাগারে ছিলেন—এ তথ্য তার কাছে গোপন রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানলে তিনি ছুটির জন্য আবেদন করতেন না।
অভিযুক্ত শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, স্ত্রীর করা মামলায় তিনি কারাগারে ছিলেন এবং ছুটির আবেদন করেছেন। তার কাছে বিভিন্ন চিকিৎসা রিপোর্ট রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, তথ্য গোপন করে ছুটির কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। পরে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কারাগারে ছিলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভিওডি বাংরলা/আ







