মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব পড়তে পারে রেমিট্যান্সে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বাংলাদেশের প্রবাসী ও রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তবে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, সরকার ইতিমধ্যে প্রবাসী ও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে, যা অচিরেই ফলপ্রসূ হবে।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়-এ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন,
“স্বাভাবিকভাবেই কিছু প্রভাব পড়বেই। তবে সরকার রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে। দ্রুতই তা দৃশ্যমান হবে। এর সুফল আপনারা অচিরেই দেখতে পাবেন।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা প্রবাসীদের নিরাপদে রাখা। তাদের লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি যেভাবেই গড়ায়, প্রয়োজনে তাদের দেশে আনার বিষয়টি মাথায় রাখা হয়েছে। কেউ আহত হলে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।”
তিনি জানান, প্রবাসীদের নিরাপত্তা তদারকিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসরকারি বিমান মন্ত্রণালয়, সব দূতাবাস এবং প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় একযোগে একটি মনিটরিং সেল গঠন করেছে। মন্ত্রী বলেন, “প্রতিদিন পরিস্থিতি মনিটর করা হচ্ছে। প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।”
এ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে তিনজন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা চলছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা এখন সম্ভব হচ্ছে না। মন্ত্রী জানিয়েছেন, “যেসব বাজার বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলো চালু করার চেষ্টা চলছে। বিকল্প হিসেবে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রমজান ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাজ কিছুটা ধীর, তবে আগামী মাস থেকে গতি আসবে।”
সভায় মন্ত্রী সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, “ঈদকে সামনে রেখে ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের সাদা পোশাকে টহল বাড়াতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারি ও মার্কেটের সিসি ক্যামেরার তত্ত্বাবধান বাড়াতে হবে। মা-বোনেরা সন্ধ্যা পরে মার্কেট আসেন, তাই বিশেষত রাতে নজরদারি জোরদার করতে হবে। কেউ অপরাধীদের পক্ষে তদবির করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভিওডি বাংলা/এমএস







