জাতীয় একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি জাহানারা আরজু প্রয়াত

জাতীয় একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি, সাহিত্য সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাহানারা আরজু ৯৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকার গুলশানে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, এক মেয়ে, নাতি-নাতনি এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী ও অনুরাগী রেখে গেছেন।
সুপ্রিম কোর্টের গণমাধ্যম কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, জাহানারা আরজু আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের মা। তাঁর স্বামী মরহুম এ কে এম নুরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রপতি, আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, পাকিস্তান আমলে ঢাকা হাইকোর্টের বিচারপতি এবং সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
জাহানারা আরজু ১৯৩২ সালের ১৭ নভেম্বর মানিকগঞ্জের জাবরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আফিল উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী এবং মা খোদেজা খাতুন। শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেছেন ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে।
সাহিত্যচর্চা শুরু করেন অষ্টম শ্রেণিতে। হাতে লেখা পত্রিকা ‘অঞ্জলি মোর গুঞ্জরণী’ প্রকাশ করেন, যার আশীর্বাদ গ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার কিংবদন্তি শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক ও মহাকবি কায়কোবাদ। ১৯৪৫ সালে তাঁর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় ‘আজাদ’ পত্রিকার মুকুলের মাহফিলে। এরপর নিয়মিত লিখেছেন সওগাত, মোহাম্মদী, বেগম, মিল্লাত ও ইত্তেহাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায়।
জাহানারা আরজু তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম মহিলা সাপ্তাহিক ‘সুলতানা’ পত্রিকার প্রতিষ্ঠাকালীন সম্পাদক ছিলেন। ১৯৪৯ সাল থেকে কবি সুফিয়া কামাল-এর সঙ্গে যৌথভাবে এই পত্রিকা সম্পাদনা করেন, যা নারী জাগরণ ও সাহিত্যচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পরবর্তীতে তিনি রাইটার্স গিল্ডের পত্রিকা ‘পরিক্রম’-এ যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। এছাড়া টিবি অ্যাসোসিয়েশনের ‘হেলথ বুলেটিন’ এবং ‘সেতুবন্ধন’ সাহিত্যপত্রিকার সম্পাদনাতেও যুক্ত ছিলেন।
জাহানারা আরজুর কবিতার মূল বিষয়-প্রেম, প্রকৃতি, মানুষ ও সমাজ। সহজ-সরল ভাষা, আন্তরিকতা এবং আবেগমাখা বর্ণনায় তিনি প্রকৃতি ও মানুষের হৃদয়ের কথা তুলে ধরেছেন। প্রকৃতির সৌন্দর্য, মাটি, মানুষ ও পৃথিবীর নানা দিক তাঁর সাহিত্যকর্মে প্রতিফলিত।
তিনি রচনা করেছেন একাধিক গ্রন্থ, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ
নীলস্বপ্ন (১৯৬২), রৌদ্র ঝরা গান (১৯৬৪), সবুজ সবুজ অবুঝ মন, আমার শব্দে আজন্ম আমি, ক্রন্দসী আত্মজা, বাদল মেঘে মাদল বাজে, শোণিতাক্ত আখর (একুশে ফেব্রুয়ারি বিষয়ক স্বনির্বাচিত কবিতা, ১৯৭১)
পুরস্কার ও সম্মাননা
বাংলা সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের জন্য তিনি ১৯৮৭ সালে একুশে পদকসহ মোট ২৬টি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বড় ছেলে মো. আশফাকুল ইসলাম (হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি), ছোট ছেলে প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিনুল ইসলাম, বড় মেয়ে অধ্যাপিকা মেরিনা জামান এবং প্রয়াত ছোট মেয়ে লুবনা জাহান রয়েছেন। এছাড়া নাতি-নাতনি ও অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী তাঁকে স্মরণ করবেন।
ভিওডি বাংলা/জা







