স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় নিজের অবস্থান জানালেন জাহের আলভী

অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত খান ইকরার রহস্যজনক ‘আত্মহত্যা’ এবং তাকে কেন্দ্র করে মামলা ও বিতর্কের মাঝে এবার ভিডিও বার্তায় মুখ খুলেছেন আলভী। সোমবার (২ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।
দাম্পত্য কলহের জেরে ইকরার মৃত্যুর পর তার পরিবার রাজধানীর পল্লবী থানায় আলভীর বিরুদ্ধে মামলা করে। ইকরার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হলেও সেখানে আলভীর অনুপস্থিতি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।
জানাজায় না যাওয়ার কারণ হিসেবে ভিডিও বার্তায় আলভী বলেন, “অনেকেই প্রশ্ন করছেন, যে মানুষটা ভালোবাসার প্রমাণ দিতে আত্মহত্যা করল, তাকে শেষ দেখা দেখতে কেন এলাম না? আপনারা কি আমার দেশে ফেরার অবস্থা রেখেছেন? আমি দেশে আসা মাত্রই 'মব' সৃষ্টি করা হবে, আমাকে ছিঁড়ে ফেলা হবে। আমার ফোনে অনবরত হুমকি আসছে। আমার কাছে তথ্য আছে, এয়ারপোর্টে লোক ফিট করা আছে, সেখানে পা রাখা মাত্রই আমার ওপর হামলা হবে।”
স্ত্রীর মুখ শেষবার দেখতে না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আপনারা আমাকে ইকরার মুখটা দেখতে দেননি, ওর পরিবারও আমাকে সুযোগ দেয়নি।”
বিদেশ থেকে ফিরতে দেরি হওয়ার বিষয়ে আলভী জানান, ঘটনার দিন তিনি নেপালে ছিলেন। ডিরেক্ট ফ্লাইট না থাকা এবং ট্রানজিট ফ্লাইটের জটিলতায় তাৎক্ষণিক টিকিট ম্যানেজ করা সম্ভব হয়নি। পরদিন ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় যখন জানতে পারেন এয়ারপোর্টে তার ওপর হামলা হতে পারে, তখন নিরাপত্তার স্বার্থেই তিনি ফিরে আসেননি।
সম্পর্কের অবনতি দাবি করে আলভী বলেন, ‘ইকরা শুরু থেকেই অনেক সন্দেহপ্রবণ ছিল, যার ফলে আমাদের সম্পর্কটা ‘টক্সিক’ হয়ে ওঠে। সে অনেক আগে থেকেই ডিভোর্স চাইত, কিন্তু আমি চাইনি।’
ইকরার আত্মহত্যার পেছনে নিজের দায় অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, তাদের কমন সার্কেলের কিছু বন্ধু ইকরাকে দিনের পর দিন প্ররোচিত (ট্রিগার) করে এই চরম পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ডিওএইচএসের বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ইকরা। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার ময়মনসিংহের ভালুকায় তাকে দাফন করা হয়।
ভিওডি বাংলা/আ







