• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

সুরক্ষিত ভবনে খামেনিকে যেভাবে হত্যা করা হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৬ এ.এম.
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ইরানের একাধিক গণমাধ্যম তার নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

রোববার (১ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম ও ফার্স সংবাদ সংস্থা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। একই দিন সকালে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা শাহাদাত বরণ করেছেন’।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর খামেনির মৃত্যুর দাবি তুলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বার্তা সংস্থা রয়টার্স দুটি মার্কিন সূত্র এবং সংশ্লিষ্ট আরেকটি অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, শনিবার ভোরে ইরানে যখন যৌথ হামলা চালানো হয়, তখন খামেনি তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ছিলেন।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ওই হামলায় খামেনির পাশাপাশি তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন শীর্ষ সহযোগীও নিহত হন। নিহতদের মধ্যে সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলি শামখানি এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

রয়টার্সকে ইরানি একটি সূত্র জানায়, হামলার ঠিক আগে খামেনি একটি সুরক্ষিত স্থানে আলি শামখানি ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানির সঙ্গে বৈঠক করছিলেন।

শনিবার খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে আল জাজিরা। ছবিতে দেখা যায়, তার প্রাসাদ ধসে পড়েছে এবং চারপাশ কালো হয়ে গেছে, যা বড় ধরনের বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দেয়। তবে হামলার ধরন, ব্যবহৃত অস্ত্র বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

ঘটনার আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে খামেনির মৃত্যুর দাবি করেন। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘খামেনি, ইতিহাসের অন্যতম দুষ্টু ব্যক্তি, মারা গেছেন। এটি শুধু ইরানের জনগণের জন্য ন্যায়বিচার নয়, বরং সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেই মহান আমেরিকানদের জন্যও ন্যায়বিচার, যারা খামেনি ও তার রক্তপিপাসু সন্ত্রাসী দলের হাতে নিহত বা ক্ষতবিক্ষত হয়েছেন। তিনি আমাদের গোয়েন্দা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থার নজর এড়াতে পারেননি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আমরা নিশ্চিত করেছি যে তিনি বা তার সঙ্গে নিহত অন্য নেতারা কিছুই করতে পারেননি।’

তিনি আরও লেখেন, ‘এটি ইরানের জনগণের জন্য নিজেদের দেশ পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে বড় সুযোগ। আমরা শুনছি যে তাদের আইআরজিসি, সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ও পুলিশ বাহিনীর অনেকেই আর যুদ্ধ করতে চান না এবং আমাদের কাছ থেকে নিরাপত্তা (ইমিউনিটি) চাইছেন।’

ট্রাম্প যোগ করেন, ‘‘যেমন আমি গত রাতে বলেছি, ‘এখন তারা নিরাপত্তা পেতে পারে, পরে তারা শুধু মৃত্যুই পাবে!’ আশা করা যায়, আইআরজিসি ও পুলিশ শান্তিপূর্ণভাবে ইরানি দেশপ্রেমিকদের সঙ্গে একীভূত হবে এবং একসঙ্গে কাজ করে দেশকে তার প্রাপ্য মহত্ত্বে ফিরিয়ে আনবে।’’

এদিকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরান সরকার ৭ দিনের সরকারি ছুটি এবং ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
খামেনির মৃত্যু সংবাদ পোস্ট করে যা লিখলেন ট্রাম্প
খামেনির মৃত্যু সংবাদ পোস্ট করে যা লিখলেন ট্রাম্প
ইরানকে উদ্ধারে কি এগিয়ে আসবে চীন?
ইরানকে উদ্ধারে কি এগিয়ে আসবে চীন?
ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান শিগগিরই: আইআরজিসি
ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান শিগগিরই: আইআরজিসি