ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ সংলাপে যুক্ত হবেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনায় পরোক্ষভাবে যুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে শুরু হওয়া সংলাপ এখন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং শিগগিরই তিনি এতে পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত হবেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমি শিগগিরই সংলাপে যুক্ত হবো, পরোক্ষভাবে। আলোচনা দিন দিন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।”
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে আলোচনা শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের। ইতোমধ্যে প্রথম রাউন্ডের আলোচনা শেষও হয়েছে। আগামী আলোচনার ভেন্যু হিসেবে সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভা-কে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে আলোচনা শুরুর আগেই, গত জানুয়ারির মাঝামাঝি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং বেশ কয়েকটি রণতরীর বড় নৌবহর পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েক দিন আগে পাঠানো হয়েছে আরও একটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ। এসব যুদ্ধজাহাজ এবং রণতরী পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় টহল দিচ্ছে।
তবে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি সংঘাত এড়িয়ে সমাধানের পথেই এগোতে চান বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, কেবল সামরিক উপস্থিতি দিয়ে এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। তার ভাষায়, “শুধু যুদ্ধজাহাজ নয়, আমাদের বি-২ (অত্যাধুনিক স্টেলথ বোমারু বিমান) বিমানও আছে এবং গত জুনে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সময় আমরা তা ব্যবহারও করেছিলাম। তবে আমি দ্বিতীয়বার সংঘাতে জড়াতে ইচ্ছুক নই এবং আমার ধারণা, তারাও (ইরান) সংঘাতের পরিবর্তে সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।”
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ-বেসামরিক কর্মসূচির আড়ালে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা বাড়াচ্ছে ইরান। যদিও এই অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করে আসছে তেহরান। উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাতও হয়েছিল।
বর্তমান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, দেশটির কাছে এখন প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে। বিশুদ্ধতার মাত্রা ৯০ শতাংশে উন্নীত করা গেলে তা দিয়ে একাধিক পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব- এমন আশঙ্কাই আলোচনাকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি বলেন, “আমরা একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী, কিন্তু অবশ্যই কোনো হুমকির সামনে নতিস্বীকার করে নয়।”
সূত্র : রয়টার্স
ভিওডি বাংলা/জা







