খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের কারণে বাড়ছে বুকজ্বালা

বুকে জ্বালাপোড়া বা অ্যাসিডিটির সমস্যা এখন অনেকের কাছেই পরিচিত এক অস্বস্তির নাম। অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, ঝাল-মসলাযুক্ত পদ কিংবা ফাস্টফুড-এসব খাদ্যাভ্যাসের কারণেই মূলত এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। খাওয়ার পর বুকের মাঝখানে জ্বালা, টক ঢেকুর বা অস্বস্তি-এসবই অ্যাসিডিটির সাধারণ লক্ষণ। তবে সবসময় ওষুধের ওপর নির্ভর না করে, ঘরে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করেও এই অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বুকজ্বালার ক্ষেত্রে কিছু ঘরোয়া উপায় দ্রুত স্বস্তি দিতে পারে। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এগুলো হজমে সহায়তা করে এবং অতিরিক্ত অ্যাসিডের প্রভাব কমাতে ভূমিকা রাখে।
আদা:
হজমজনিত সমস্যা কমাতে আদা দীর্ঘদিন ধরেই কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অ্যাসিডিটি, গ্যাস ও পেট ফাঁপার মতো সমস্যায় আদা বেশ উপকারী। এতে থাকা সক্রিয় উপাদান জিঞ্জেরল প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, যা পেটের অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করে। আদা অন্ত্রের গ্যাস কমাতে সাহায্য করে, হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে এবং অতিরিক্ত অ্যাসিড উৎপাদন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। কুসুম গরম পানিতে সামান্য আদা কুচি বা আদা চা খেলে বুকের জ্বালাপোড়া কম অনুভূত হতে পারে।
তুলসি পাতা:
তুলসি শুধু ভেষজ গুণের জন্যই নয়, হজমের সমস্যা কমাতেও বেশ কার্যকর। এতে থাকা ইউজেনলসহ বিভিন্ন উপকারী যৌগ পেটের অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তুলসি পাতার প্রদাহবিরোধী ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে, যা হজমতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে ভূমিকা রাখে। এছাড়া এটি পেটে গ্যাস জমা কমায় এবং অস্বস্তি হ্রাস করে। প্রতিদিন কয়েকটি তাজা তুলসি পাতা চিবিয়ে খাওয়া বা পানিতে ভিজিয়ে সেই পানি পান করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। নিয়মিত খাদ্যতালিকায় তুলসি যুক্ত করলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের প্রবণতাও কমতে পারে।
অ্যালোভেরা জুস:
অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর জুস পাচনতন্ত্রের জন্য প্রশান্তিদায়ক হিসেবে পরিচিত। এটি পেট ও খাদ্যনালীর জ্বালা কমাতে সাহায্য করে এবং অ্যাসিডের প্রভাব কিছুটা প্রশমিত করে। অ্যালোভেরায় থাকা প্রাকৃতিক উপাদান পেটের আস্তরণকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রদাহ কমাতে সহায়ক। ফলে বুকজ্বালার উপসর্গ কমতে পারে। খাবারের আগে অল্প পরিমাণ-প্রায় এক-চতুর্থাংশ কাপ-অ্যালোভেরা জুস পান করলে হজমে স্বস্তি মিলতে পারে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে বুকজ্বালার সমস্যা থাকলে বা ঘন ঘন অস্বস্তি দেখা দিলে তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ কখনও কখনও এটি বড় ধরনের হজমজনিত সমস্যার লক্ষণও হতে পারে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত পানি পান এবং অতিরিক্ত তেল-ঝাল এড়িয়ে চলাও বুকজ্বালা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভিওডি বাংলা/জা







