• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস আজ

লাইফস্টাইল    ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:১৪ এ.এম.
ভালোবাসা প্রকাশের বার্তা নিয়ে প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি উদ্‌যাপিত হয় বিশ্ব ভালোবাসা দিবস-ছবি: সংগৃহীত

ফাগুনের রঙিন আবহে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। প্রতি বছর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজুড়ে দিনটি উদ্‌যাপন করা হয় প্রেম, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রকাশের উপলক্ষ হিসেবে। দিনটি সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভ্যালেন্টাইন ডে নামেও পরিচিত। বিশেষ এই দিনে প্রিয়জনদের প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক অনুভূতি প্রকাশের নানা আয়োজন দেখা যায়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি ঘিরে থাকে উৎসবমুখর পরিবেশ। প্রেমিক-প্রেমিকা, বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্যরা ফুল, কার্ড, চকলেট ও নানা উপহার দিয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার বার্তায় ভরে ওঠে টাইমলাইন।

ভালোবাসা দিবস শুধু ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়-এর আগে শুরু হয় ভালোবাসার সপ্তাহ, যা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পালিত হয়ে আসছে। এই সপ্তাহের প্রতিটি দিনকে আলাদা তাৎপর্যে উদ্‌যাপন করা হয়। যেমন-রোজ ডে, চকলেট ডে, টেডি ডে, প্রমিজ ডে, হাগ ডে ও কিস ডে ইত্যাদি। এসব দিনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে আবেগ ও সম্পর্কের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার প্রতীকী আয়োজন করা হয়। সপ্তাহের শেষ দিন হিসেবে ১৪ ফেব্রুয়ারি আসে ভ্যালেন্টাইন ডে।

ইতিহাসবিদদের মতে, দিবসটির নামকরণ হয়েছে খ্রিষ্টান ধর্মযাজক Saint Valentine–এর নাম অনুসারে। তিনি তৃতীয় শতাব্দীতে রোমে বসবাস করতেন। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, সে সময়ের রোমান সম্রাট Claudius II Gothicus মনে করতেন, অবিবাহিত সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্রে বেশি কার্যকর। তাই তিনি সৈন্যদের বিয়ে নিরুৎসাহিত করতেন। কিন্তু সেন্ট ভ্যালেন্টাইন গোপনে খ্রিষ্টান দম্পতিদের বিয়ে সম্পন্ন করতে সহায়তা করতেন। এ কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তার স্মরণেই ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালনের প্রথা চালু হয়েছে বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।

আরেকটি মত অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে প্রাচীন রোমে ‘লুপারক্যালিয়া’ নামে একটি উৎসব পালিত হতো, যা উর্বরতা ও সামাজিক বন্ধনের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। পরবর্তীতে পঞ্চম শতাব্দীর শেষ দিকে পোপ Pope Gelasius I এই উৎসব বন্ধ ঘোষণা করেন। এরপর ধীরে ধীরে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে খ্রিষ্টীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করে নতুনভাবে পালনের রীতি গড়ে ওঠে।

১৪ ও ১৫ শতকের দিকে ইউরোপে দিনটি রোমান্টিক প্রেমের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত হয়ে পড়ে। সাহিত্য ও লোককথায় ভালোবাসার প্রতীকী দিন হিসেবে এর উল্লেখ বাড়তে থাকে। ১৮ শতকের ইংল্যান্ডে ভ্যালেন্টাইন ডে জনপ্রিয় সামাজিক প্রথায় পরিণত হয়। তখন দম্পতিরা ফুল, মিষ্টি ও শুভেচ্ছা কার্ড বিনিময়ের মাধ্যমে নিজেদের আবেগ প্রকাশ করতেন। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে আধুনিক ভ্যালেন্টাইন কার্ড ও উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী।

বর্তমানে ভালোবাসা দিবস কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অনেকেই এই দিনে বাবা-মা, ভাই-বোন, বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের প্রতিও ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ফলে দিনটি হয়ে উঠেছে সম্পর্ক উদ্‌যাপনের একটি সর্বজনীন উপলক্ষ।

ভালোবাসা প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট দিনের প্রয়োজন না হলেও, এমন একটি দিন মানুষকে অনুভূতি প্রকাশে অনুপ্রাণিত করে। বসন্তের আবহে তাই প্রিয় মানুষদের প্রতি আন্তরিকতা, সম্মান ও ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়ার বার্তাই নিয়ে আসে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সকালের নাস্তা দেরিতে করছেন? বাড়তে পারে হজমের সমস্যা
সকালের নাস্তা দেরিতে করছেন? বাড়তে পারে হজমের সমস্যা
শাড়ি-পাঞ্জাবিতে আরাম ও আধুনিকতার মিলন
বৈশাখের ফ্যাশনে নতুন ছোঁয়া: শাড়ি-পাঞ্জাবিতে আরাম ও আধুনিকতার মিলন
প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ও ব্রণ কমাতে দারুণ উপকারী ঢেঁড়স
প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ও ব্রণ কমাতে দারুণ উপকারী ঢেঁড়স