বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
রাষ্ট্রীয় সংকট উত্তরণে ২২ দফা ইশতেহার ঘোষণা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২২ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। পাঁচ অধ্যায়ে বিভক্ত এই ইশতেহারে দলটির রাজনৈতিক দর্শন, নৈতিক অবস্থান ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ইশতেহারে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে রাষ্ট্রীয় সংকট থেকে উত্তরণের একটি সমন্বিত ও বাস্তবধর্মী রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। পাঁচটি অধ্যায়ে বিভক্ত ২২ দফা ইশতেহারে একটি বিস্তৃত ভূমিকা ও উপসংহার সংযুক্ত রয়েছে, যেখানে দলটির রাজনৈতিক দর্শন, নৈতিক অবস্থান এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিমালা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইশতেহারের প্রথম অধ্যায়ে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা প্রায় ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে একতরফা নির্বাচন, ভোটাধিকার হরণ, গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের দলীয়করণ এবং সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রব্যবস্থার ধ্বংসের বিবরণ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এসব ঘটনার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নিরপেক্ষ তদন্ত, ন্যায়বিচার ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির দাবি জানানো হয়।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে সংগঠনটির ছয়টি অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সুষম উন্নয়ন ও নাগরিক জীবনের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা, স্বাধীন ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি, সার্বজনীন ও নৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং কর্মসংস্থান ও তরুণদের জন্য এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টিভিত্তিক কর্মসূচি।
ইশতেহারে বলা হয়, উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে মানুষ, চাকরি ও মানবিক নিরাপত্তা—কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ নয়।
তৃতীয় অধ্যায়ে ধর্মীয় পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় নীতি, ইসলামী অর্থনীতি, শিক্ষা ও সংস্কৃতি, কওমি মাদরাসা, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, নারী ও শিশু সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার বিষয়ে বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের সঙ্গে ইসলামী আকীদা ও মূল্যবোধ রক্ষায় রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।
চতুর্থ অধ্যায়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, গুম-খুন, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন, ঋণখেলাপি এবং অর্থ পাচারের মতো রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার ঘোষণা দেওয়া হয়। এসব অপরাধ দমনে বিশেষ আইন প্রণয়ন, স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকরের অঙ্গীকার করা হয়।
পঞ্চম অধ্যায়ে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলা হয়—রাজনীতি হবে আমানত, ক্ষমতা হবে জবাবদিহিমূলক এবং রাষ্ট্র পরিচালিত হবে আল্লাহভীতি, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার ভিত্তিতে।
সংবাদ সম্মেলনটি পরিচালনা করেন দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা ইউসুফ আশরাফ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা কুরবান আলী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা এনামুল হক মূসা, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা জহিরুল ইসলাম, বায়তুলমাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান, অফিস সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমীন খান, প্রচার সম্পাদক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব মাওলানা হাসান জুনাইদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ছানাউল্লাহ আমিনী এবং খেলাফত ছাত্র মজলিসের আশরাফুল ইসলাম সাদসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
ভিওডি বাংলা/ আরিফ







