টেকনাফে বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণায় গুলিবর্ষণ, ৩ শিশুসহ আহত ৫

কক্সবাজারের টেকনাফে বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণা চলাকালে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত গুলিতে তিন শিশুসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই শিশুর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন সড়কে এ গুলির ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে কক্সবাজার-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে ২০ থেকে ২৫ জন সমর্থক একটি মিনিট্রাক (ডাম্পার) নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এ সময় আলীখালী এলাকায় গাড়িটি সড়কে অবস্থান করলে মাইক বাজিয়ে নাচ-গান ও স্লোগান দেওয়া হচ্ছিল। এতে আশপাশের উৎসুক লোকজন সেখানে ভিড় করেন।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা প্রচারণা এলাকায় উপস্থিত জনতার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। হঠাৎ গুলির শব্দে এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে প্রচারণার গাড়িটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে এবং সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি শুরু করেন।
গুলিবিদ্ধদের তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে তাদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত প্রায় ২টার দিকে তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহতরা হলেন-হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোচনী গ্রামের বাসিন্দা ভেক্কা মিয়ার ছেলে বাচা মিয়া (৪৫), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলীখালী গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলামের ছেলে শাহাব উদ্দিন (১১), একই এলাকার আব্দুল জলিলের ১৮ মাস বয়সী কন্যা নুসরাত জান্নাত রাফি, আলীখালীর পার্শ্ববর্তী ২৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/ফাইভ ব্লকের বাসিন্দা নুর হোসেনের ছেলে আব্দুর রহমান (৩৭) এবং ডি/ফোর ব্লকের বাসিন্দা নুরুল হকের ছেলে মোহাম্মদ জিসান (১৩)।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেকোরেশন শ্রমিক বাচা মিয়া বলেন, “আলীখালীর মোহাম্মদ মিয়ার বাড়ির পাশে একটি বিয়ের ডেকোরেশনের কাজে ছিলাম। একটু দূরে বিএনপির একটি প্রচারণা গাড়ি থেকে মাইক বাজানো হচ্ছিল। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনি। প্রথমে মনে হয়েছিল বারুদের শব্দ। পরে দেখি আমার হাতে গুলি লেগেছে। কারা গুলি করেছে বুঝতে পারিনি।”
অপর আহত আব্দুর রহমান জানান, “নামাজ পড়ে এসে সড়কের পাশে একটি দোকানে দাঁড়িয়ে ভোটের প্রচারণা দেখছিলাম। হঠাৎ গুলির শব্দ শুনি। আমার বাঁ পায়ে গুলি লাগে। সঙ্গে সঙ্গে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। পরে লোকজন আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।”
গুলিবিদ্ধ শিশু নুসরাত জান্নাত রাফির মা ছমিরা বেগম জানান, তিনি তার মেয়েকে নিয়ে সড়কের পাশের একটি ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ দুটি গুলি এসে রাফির পিঠে লাগে। অন্যদিকে, ১১ বছর বয়সী শাহাব উদ্দিনের কোমরে গুলি লেগেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “অতর্কিত হামলায় পাঁচজন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ক্যাম্প এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর একটি প্রচারণা ট্রাক ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় জনসমাগম ঘটে। এ সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা হঠাৎ উপস্থিত জনতার ওপর গুলি চালায়।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীদের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
ভিওডি বাংলা/জা







