• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ষ:

শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ ৩০ আহত

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি    ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩৫ পি.এম.
জবি ধূপখোলা মাঠে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচের পর সংঘর্ষ -ছবি-ভিওডি বাংলা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ধূপখোলা কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই দফায় দফায় সংঘর্ষে শিক্ষক ও সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে খেলা শেষ হওয়ার পরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নির্ধারিত সময়ে খেলা ড্র হওয়ায় টাইব্রেকারে গড়ায়। টাইব্রেকারে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ৩-০ গোলে জয় লাভ করে। তবে জয়ের পর উল্লাসের সময় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়, যা দ্রুত ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে শিক্ষক ও সাংবাদিকরা আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম, ড. তারেক বিন আতিক, ড. মুহাম্মদ সালেহ উদ্দিন ও ড. ইব্রাহীম খলিল। এছাড়া গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একাধিক শিক্ষকও আহত হয়েছেন।

পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় হামলার শিকার হয়েছেন কয়েকজন সাংবাদিকও। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন দ্য ডেইলি স্টারের জবি প্রতিনিধি রাকিবুল হাসান রাকিব, দৈনিক আমার দেশের লিমন ইসলাম, দেশ রূপান্তরের ফাতেমা আক্তার, দিনকালের এস এম সিয়াম, নওরোজের নাঈমুর রহমান ও বায়ান্ন নিউজের মিনহাজুল ইসলাম মিন্টু। আহত সাংবাদিকদের রাজধানীর ন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তাজাম্মুল হক বলেন, “খেলা নিয়ে এ ধরনের মারামারির ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশের পরিপন্থী। আমরা ইতোমধ্যে উভয় বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছি এবং বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধান করার চেষ্টা করছি।”

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা জয়ের উল্লাসের সঙ্গে মিশে যায়, যা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ঘটনার সময় শিক্ষকরা পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে তাদেরও আঘাত লাগে। একই সঙ্গে পেশাগত দায়িত্বে থাকা সাংবাদিকরাও সংঘর্ষের শিকার হন।

পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনী অবিলম্বে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় সংঘর্ষ দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, শিক্ষার্থী ও নিরাপত্তা কমিটি মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, আহত শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের দ্রুত চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া, দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের কারণ ও ঘটনা যাচাই করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত এই ফুটবল টুর্নামেন্টটি সাধারণত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ক্রীড়ার মানসিকতা উন্নয়নের জন্য আয়োজন করা হয়। তবে এ ধরনের ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক।

প্রক্টর ড. তাজাম্মুল হক আরও বলেন, “আমরা চাই শিক্ষার্থীরা ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে আনন্দ ও বন্ধুত্বের অংশ হিসেবে উপভোগ করুক, মারামারি নয়। সব বিষয় সমাধানের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের আহত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয় সমাজে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভিওডি বাংলা/জা   

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
উচ্চশিক্ষার সংকট নিরসনে অংশীজন সংলাপ করবে ইউজিসি
উচ্চশিক্ষার সংকট নিরসনে অংশীজন সংলাপ করবে ইউজিসি
শেকৃবিতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ
শেকৃবিতে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের নতুন ভিশন
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের নতুন ভিশন