ধানের শীষ দিয়ে তৈরি পোশাক পড়ে বরিশালে ইউনুস

বরিশাল বেলস পার্কের মাঠে সারা শরীরে ঘাম, কিন্তু চোখে উজ্জ্বল আশা। ধানের শীষে তৈরি পোশাক পরে স্লোগান দিচ্ছেন ইউনুস হাওলাদার। তাঁকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীরা ছবি তুলছেন, কেউ ফেসবুকে লাইভ করছেন। উৎসাহের কমতি নেই কারো।
গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে গ্রাম থেকে পৌঁছে বেলস পার্কে হাজির হন ইউনুস। গত বছর গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে অন্তত ২৩টি সমাবেশে ধানের শীষে তৈরি পোশাক পরে অংশ নিয়েছেন।
পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার ইউনুসের কাছে রাজনীতি শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি ভালোবাসা, ত্যাগ আর বিশ্বাসের নাম। সেই বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে তিনি ধানের শীষের পোশাক পরে বরিশালের জনসভায় যোগ দিয়েছেন ইউনুস।
কষ্ট থাকলেও নেতাকর্মীদের উৎসাহ দেখেই আনন্দ পান তিনি। ইউনুসের রাজনৈতিক পথও সহজ ছিল না। ২০১৮ সালের আগ পর্যন্ত তিনি রাজধানীর শ্যামনগর থানা শ্রমিক দলের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। কিন্তু ছয়টি মামলার ভয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যান।
সেখানে অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন, তবু বিএনপির রাজনীতির আগ্রহ তাঁকে কখনো ছাড়েনি। দেশের যেকোনো বড় সমাবেশে দেখা মেলে তাকে এবং নিজের হাতে কেটে ধানের শীষের মতো পোশাক তৈরি করেছেন। সমাবেশে ইউনুসকে ঘিরে নেতাকর্মীরা ছবি ও সেলফি তুলতে ব্যস্ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটর, সংবাদকর্মীদেরও নজর কেবল তাঁর ওপর। তিনি বলেন, দলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই আমি সমাবেশে অংশ নিই।
পোশাকের খরচ নিজেই বহন করি। মামলা, নির্যাতন, রাতভর ধানক্ষেতে কাটানো, সব পার করেছি ভালোবাসার জন্য। বর্তমানে শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করছেন ইউনুস। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের দমন-পীড়নের মধ্যেও রাজপথ ছাড়েননি তিনি। আন্দোলন-সংগ্রামে বাধা, ভয়ভীতি ও চাপ— সব কিছু পেরিয়েও দলের কর্মসূচিতে সক্রিয় থেকেছেন।
প্রায় ২০ কেজি ধান সংগ্রহ করে নিজ হাতে ধানের শীষ দিয়ে পোশাক তৈরি করেছেন ইউনুস। বরিশাল বিভাগ ও পটুয়াখালীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে এই পোশাক পরে অংশগ্রহণের কারণে পরিচিত হয়েছেন ‘ধানের শীষের মানুষ’ হিসেবে। স্থানীয়রা বলছে, তিনি বিএনপির আত্মার প্রতীক। তাঁর ভালোবাসা ও ত্যাগ কোনো টাকার মাপে মাপা যায় না।
৪৭ বছর বয়সী ইউনুস হাওলাদারের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, বিএনপির রাজনীতি এখনো তৃণমূলের ভালোবাসা, ত্যাগ এবং সংগ্রামের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ধানের শীষের পোশাক শুধুই প্রতীক নয়, এটি এক দীর্ঘ সংগ্রামের পরিচয়।
ভিওডি বাংলা/এম







