• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ইরানের উদ্দেশে যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৫৩ এ.এম.
একাধিক যুদ্ধজাহাজ ইরানের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে নিবিড় নজরদারিতে রাখতে দেশটির উদ্দেশে যুদ্ধজাহাজের একটি বিশাল বহর পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন শেষে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের দিকে একটি আর্মাডা পাঠিয়েছি। আমি বলছি না যে কোনো কিছু ঘটবেই, হয়তো এই বহর ব্যবহার করার প্রয়োজনই পড়বে না। তবে আমরা ইরানকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রাখছি।”

ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিমান বহনকারী রণতরি ইউএসএস আব্রাহামসহ বেশ কয়েকটি গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যে ইরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই বহর ইরানের উপকূলবর্তী এলাকায় অবস্থান নেবে বলে জানা গেছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অদূর ভবিষ্যতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে যুদ্ধজাহাজের বহরে আধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বহরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম।

মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহেই এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে এই নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রা শুরু করে। এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি ইরানের প্রতি একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক দ্রুত অবনতির দিকে যায়। গত বছরের জুন মাসে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের ঘটনাও ঘটে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।

এদিকে, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করে। সে সময় ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিল। ট্রাম্প তখন প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, বিক্ষোভ দমনে যদি তেহরান নিষ্ঠুর পন্থা অবলম্বন করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানের পথে হাঁটতে পারে।

যদিও শেষ পর্যন্ত সরাসরি সামরিক অভিযান চালানো হয়নি, তবে যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকেরা। তাঁদের মতে, এই পদক্ষেপ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

ভিওডি বাংলা/জা
 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আফগানিস্তানের কাবুলে  হাসপাতালে হামলা, নিহত ৪শ’
আফগানিস্তানের কাবুলে  হাসপাতালে হামলা, নিহত ৪শ’
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল: ভারতকে পাল্টা শর্ত ইরানের
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল: ভারতকে পাল্টা শর্ত ইরানের
আরব আমিরাতে ইরানের ড্রোন হামলা, ভবনে আগুন
আরব আমিরাতে ইরানের ড্রোন হামলা, ভবনে আগুন