• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

সব সংকটের একমাত্র সমাধান হচ্ছে নির্বাচন- আব্দুস সালাম

   ২১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:৫৬ পি.এম.

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আব্দুস সালাম বলেছেন, এখনো সংকট কাটেনি। দেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আপনাদের ক্ষমতায় নিয়ে আসা হয়েছে। ক্ষমতায় নিয়ে আসা হয়েছে নির্বাচনের সময় দীর্ঘায়াতি করার জন্য না; এমনকি নির্বাচনের সময় দীর্ঘায়াতি করে পতিত আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে নয়। আমরা আপনাদের সমর্থন করি। ভুলে গেলে চলবে না; সব সংকট থেকে উত্তোরণের একমাত্র পথ নির্বাচন। আমরা চাই না এই সরকার ব্যর্থ হোক। আপনারা গণতন্ত্র চর্চা করুন, ভোট প্রয়োগে উদ্যোগ দেন। স্বার্থকভাবে নির্বাচন দিয়ে বিদায় নেন।

শনিবার ২১ ডিসেম্বর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুপুরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিজয়রের ৫৩ বছর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি শীর্ষক আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব হুমায়ুন বেপারীর সভাপতিত্বে বক্তব্যে দেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও সাবেক রাষ্ট্রদূত প্রফেসর আনোয়ারুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. সুকোমল বড়ুয়া প্রমুখ।

নিজেদের অন্তদ্বন্দ্বের কারণে অতীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল মন্তব্য করে আব্দুস সালাম বলেন, আগামী ভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেই ভোটে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ভারতের আধিপত্য ধরে রাখার শক্তি আওয়ামী লীগ থাকবে; নাকি জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রতিনিধি বিএনপি ক্ষমতায় থাকবে। এটা সোজা মেরুকরণ; এর মাঝামাঝি কিছু নাই। পরিষ্কার কথা; আওয়ামী লীগের ৭২ থেকে ৭৫ দেশের মানুষের উপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়েছে। যে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করেছিলাম সেই ভোটের অধিকার আওয়ামী লীগ কেড়ে নিয়েছিল। সমগ্র দল নিষিদ্ধ করে বাকশাল গঠন করেছিল। সেগুলো বিছিন্নভাবে দেখার বিষয় নয়।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে আব্দুস সালাম বলেন, ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ আমরাও ভেবে ছিলাম কী হবে; হয়তো আজ একটা কিছু হবে। সন্ধ্যার পরপর আমাদের বলে দেয়া হলো তোমরা যার যার এলাকায় চলে যাও এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে ব্যারিকেড দাও। সে সময় আমি ঢাকার ফকিরাপুলে থাকি। রাস্তায় পড়ে থাকায় ইট পাথর জমা করে ব্যারিকেড তৈরি করি। যদিও সেনাবাহিনী( পাকিস্তান) আটকানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তবে আমাদের মনোবল ছিল। আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম- যুদ্ধ হবে এবং যুদ্ধে আমাদের জয়লাভ করতে হবে। পরবর্তীতে ক্র্যাকডাউন শুরু হলে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে  থাকা সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। সেখানে অনেক পুলিশ সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন। যারা আহত হয়েছিল তাদেরকে আমরা সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই স্বাধীনতা ও যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে বের হয়ে আসা এই পুলিশ বাহিনীকে দিয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে কিভাবে চরিত্র হরণ করা হয়েছে। শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিগত সরকার তাদেরকে কিভাবে ব্যবহার করেছে। যেকারণে আজকে পুলিশ বাহিনীর মনোবল দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারা জনগণের সামনে সাহস নিয়ে দাড়াতে পাচ্ছেন না।

‘৭১ সালে ২৫ মার্চ রাতে পুলিশের মতো বিডিআর সাহসিক ভূমিকা রেখেছে। প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেই বিডিআরের মধ্যেও ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে অনেক কর্মকর্তাকে কিভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। অথচ যুদ্ধের মধ্যে দিয়েও এতোগুলো অফিসার মারা যায়নি। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে গড়ে উঠা সেনাবাহিনী; যখন শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করতে ব্যর্থ হলো বা সাহস পায়নি। আওয়ামী লীগ আত্মসম্পর্ণ করে দিল তখন সেনাবাহিনীর একজন মেজর যিনি পরবর্তীতে শহীদ হয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ করলেন এবং স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। সেই সেনাবাহিনীকে নষ্ট করার জন্য স্বাধীনতার পরপরই রক্ষী বাহিনী গঠন করা হল। কেন গঠন করা হয়েছিল রক্ষীবাহিনী।’

তিনি বলেন, আজকে হিসাব-নিকাশ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের ৫৩ বছর পর আমরা কোথায় আছি। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর আজকে ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলার সাহস পায় যে; ১৬ ডিসেম্বর তাদের বিজয় দিবস। অথচ এসব কিছু একইসূত্রে গাথা।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ; যারা মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র দাবিদার হিসেবে দাবি করে তারা মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। যে কারণে প্রতিবার ক্ষমতায় এসে সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনীকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করেছে। আমরা যারা রাজনীতি করি।

‘মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার মূল ইতিহাস গবেষণা ও বিশ্লেষণ করা দরকার। কে কোন দল করি সেটা মুখ্য বিষয় না। কিন্তু স্বাধীনতার প্রশ্নে এই বিষয়গুলো কেন ঘটেছে সেটার মূলে যেতে হবে। যাইনি বলেই কিন্তু আজকে এতোবছর পর শুনতে হচ্ছে ১৬ ডিসেম্বর ভারতের বিজয় দিবস। যুদ্ধটা নাকি পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে ছিল। যদিও এর আগে কেউ কেউ ইনিয়ে বিনিয়ে বলার চেষ্টা করেছে; এমনকি তারা সিনেমায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছে। তবে এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রথম বলল। তাই এখনো যারা একটু ঢিলেতালে আছেন; মনে করছেন সবকিছু থেকে দেশ আপদ-বিপদ মুক্ত হয়ে গেছে, এমনকি যারা এই মুহুর্তে অন্তর্বর্তীকালী সরকারের আমলে ক্ষমতায় আছেন; তারাও যদি মনে করেন যে ক্ষমতার স্বাদ আজীবন বয়ে বেড়াবেন। সেটাও খুব বেশি একটা না। তাই যত দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার আনা যায়; জনগণের ম্যান্ডেট নেওয়া যায় সেই উদ্যোগ নিন। এই ম্যান্ডেট হবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে।’

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলন শেষ হয়নি। দ্রুত নির্বাচন দিতে আমার মনে হয় অন্তর্বর্তী সরকারকে বাধ্য করতে আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই অগ্রসর হতে হবে।


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আসিফ মাহমুদের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকের সাক্ষাৎ
আসিফ মাহমুদের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকের সাক্ষাৎ
বিএনপিতে যোগ দিলেন মেঘনা আলম
বিএনপিতে যোগ দিলেন মেঘনা আলম
শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে পারেন ঈদের আগেই
শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে পারেন ঈদের আগেই