শীতকালে বেড়ে যায় অ্যাজমা

ডা. জাহেদ পারভেজ
শ্বাসতন্ত্রে প্রদাহ ও সংবেদনশীলতায় স্বাভাবিকভাবে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। এর নামই হাঁপানি বা অ্যাজমা। শীত এলেই বাড়ে এ রোগ। তাই এখনই সাবধান হোন। এ সময় ঠাণ্ডা-জ্বর, শুষ্ক বাতাস, যা শ্বাসতন্ত্র সংকুচিত করে। শুধু শ্বাসকষ্ট নয়, শীতের পোশাক, লেপ, কম্বলের ব্যবহার শুরু হলেই হাঁচি-কাশি অনেকের বাড়ে।
লক্ষণ : শ্বাসকষ্ট, সঙ্গে শুকনো কাশি, শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় বাঁশির মতো শব্দ, হঠাৎ দমবন্ধ ভাব অনুভব করা, শীতের সময় আবহাওয়া শুষ্ক ও ধুলোবালির প্রকোপ বেড়ে যায়। তাই সাবধান না থাকলে জীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
যে ধরনের জীবাণু দায়ী : মাইট নামক আর্থোপড জাতীয় জীবাণু এ রোগের জন্য দায়ী। বিছানা, বালিশ, কার্পেট হলো মাইটের আদর্শ বাসস্থান। আর্দ্রতা ও গরম আবহাওয়ায় মাইট জীবনচক্র সম্পূর্ণ করে থাকে।
ধুলো থেকে দূরে থাকুন : অ্যাজমার বড় শত্রু ধূলি। যতটা পারা যায়, ধুলা এড়িয়ে চলতে হবে।
ফুলের ঘ্রাণ নেবেন না : শীত মৌসুমে এ কাজ থেকে দূরে থাকুন। অন্তত যদি অ্যাজমার সমস্যা থাকে, তবে উপদেশ পালন করতেই হবে।
ধূমপান ত্যাগ করুন : এ সময় ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করলে শুষ্ক কাশি থেকে মুক্তি পাবেন।
মুখ ঢেকে রাখুন : সুস্থ থাকতে মাফলার বা স্কার্ফ দিয়ে নাক-মুখ ভালো করে ঢেকে বেরোবেন। মাস্ক পরবেন। নইলে ঠাণ্ডা বাতাস নাক-মুখ দিয়ে ভেতরে গেলে বা ফুসফুসে প্রবেশ করলে অ্যাজমা রোগীরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বেন।
চিকিৎসা : প্রথমেই দরকার রোগ নির্ণয়। রক্ত পরীক্ষায় ইয়োসিনোফিল ও সিরাম আইজিই-এর মাত্রা বেশি আছে কিনা, দেখা হয় অ্যাজমা নির্ণয়ে এবং অ্যালার্জির জন্য স্কিন প্রিক টেস্ট করা হয়। এ পরীক্ষায় রোগীর চামড়ার ওপর বিভিন্ন অ্যালার্জেন দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এ পরীক্ষায় কোন কোন জিনিসে রোগীর অ্যালার্জি আছে, তা ধরা পড়ে।
সতর্কতা : অ্যালার্জিকারক বস্তু এড়িয়ে চলুন। যেমন- ধুলোবালি, ঘরের ঝুল, ধোঁয়া ইত্যাদি থেকে দূরে থাকুন। ঘরদোর ধুলোবালিমুক্ত রাখার চেষ্টা করুন। এজন্য দৈনিক অন্তত একবার ঘরের মেঝে, আসবাপত্র, ভেজা কাপড় দিয়ে মুছতে হবে অথবা ভ্যাকিউম ক্লিনার ব্যবহার করতে হবে। ঘরে কার্পেট রাখবেন না। বালিশ, তোষক, ম্যাট্রেসে তুলা ব্যবহার না করে স্পঞ্জ ব্যবহার করুন। যথাসম্ভব গরম পানিতে গোসল করুন। ধূমপান করবেন না। যেসব খাবারে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, তা পরিহার করে চলুন। ঠাণ্ডা খাবার, আইসক্রিম ইত্যাদি খাবেন না।
প্রতিষেধক : এ ধরনের সমস্যা থেকে রেহাই পেতে ওষুধ হয়তো সাময়িকভাবে অ্যালার্জির উপশম করে। মনে রাখতে হবে, যতদিন ওষুধ ব্যবহার করা যায়, ততদিনই ভালো থাকা সম্ভব এবং ওষুধ বন্ধ করলেই রোগের লক্ষণ আবার বেড়ে যায়। এ রোগের প্রধান ওষুধ হলো ইনহেলার স্টেরয়েড। শীতকালে গরম কাপড় সঙ্গে রাখবেন, পোশাক রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করবেন। তারপরও যদি অ্যালার্জি বেড়ে যায়, শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে ত্বক বা অ্যালার্জি রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সুস্থ থাকতে পারেন।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ত্বক-চর্ম-যৌন ও অ্যালার্জি রোগ বিভাগ, সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল







