বিজয় দিবস উদযাপনে উজ্জীবিত বিএনপির নেতা-কর্মীরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
আজ সোমবার ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। ২০০৬ সালের পর এবারই প্রথম বাধাহীন বিএনপি ঢাকাসহ সারাদেশে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করেছে। কর্মসূচিতে দলটির নেতাকর্মীরাও ছিল বেশ উজ্জীবিত। বিজয় দিবসে ঢাকাসহ সারাদেশের মহানগরে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। সকালে রাজধানীর সাভারস্থ জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যদিও তিনি সেখানে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে সাভারস্থ সিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিনি তার বাসভবনে পৌছান।
সোমবার ১৬ ডিসেম্বর দেশব্যাপী বিজয় দিবস উপলক্ষে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে যা বলছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা।
ভোট নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া বক্তব্যে সাদুবাদ জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সোমবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, আমি প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যটা শুনি নাই.. আপনার মুখেই যেটা জানলাম। উনি যেটা বলেছেন, যথার্থ বলেছেন। নির্বাচনে যারা পার্টিসিপেট করবে, যারা অংশীজন, তারা যদি চায় তিনি যৌক্তিক সময়ে নির্বাচন দেবেন। সাধুবাদ জানাই। কিন্তু এর বাইরে কোন কথা কারো নাই।
সংস্কার বিষয়ে তিনি বেলন, এটা যুগ যুগ ধরে চলবে্। এটা নতুন কিছু না। এটা একটা প্যাকেট না, একটা প্যাকেটে করে এনে আমি সংস্কার হয়ে গেলাম। এটা সময়ের বিবর্তনে, সময়ের চাহিদায় সংস্কার প্রয়োজন হয়। আমরা আশা করছি, এ সরকার দ্রুততম সময়ে জনগণের ভোটের অধিকার জনগণের হাতে ফেরত দেবে। এটাই আমাদের কাম্য।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য আমরা আন্দোলন করেছি, সেদিন একজন (অন্তর্বর্তী সরকারের এক উপদেষ্টা) বললেন; অবশ্য বয়স কম এমন কথা বলাটাই স্বাভাবিক- রাজনীতিবিদরা নাকি এই সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। অথচ বাচা-ধন এই মুহুর্তে যদি নামি; নেমে যেতে হবে। কিন্তু আমি তো সেটা চাই না। আমি চাই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আপনারা এসেছেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আপনাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মনে কষ্ট হয়, কারণ মানুষ যে পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধ করেছিল তা এখনো অর্জিত হয়নি। এখনো দেশের লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে ঘুমায়, লাখ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন। এখনো আমাদের দেশে লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার।
বর্তমান সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, এখন যে সরকার আছে তারা জোর করে ক্ষমতায় আসেনি। দেশের ছাত্র-জনতা, শ্রমজীবী মানুষ, যুবক, সাধারণ মানুষ ও আমরা সবাই মিলে তাদের রাষ্ট্র ক্ষমতার দায়িত্ব দিয়েছি। একটি নির্দিষ্ট মিশনের জন্য তাদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য দৈনন্দিন যেসব কাজ, জনগণের সমস্যা সামাধানের জন্য কাজ করবে এবং পাশাপাশি দেশের গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।
বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নজরুল ইসলাম খান বলেন, মনে রাখতে হবে আমরা এক দফার আন্দোলন শুরু করেছিলাম, বিগত জুলাই-আগস্টেও যে লড়াই হলো, তা শুধু ফ্যাসিবাদের পতনের জন্য না, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে, এখন গনতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।
গণতন্ত্রের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেন, রাজনীতিকরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। সেই প্রেক্ষিতে তারা আগামী দিনের রাজনৈতিক পথ সঠিক পথে চালাবে। সেটাই গণতন্ত্র, এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিজ্ঞা করেছি বিএনপিসহ প্রায় ৫০টি দলের ঐকমত্যে আমরা আমাদের ৩১ দফার সংস্কার পরিপূর্ণভাবে পালন করব।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের একটি ধারণা দিয়েছেন। কিন্তু বিএনপি ধারণা নয় সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চেয়েছে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক বলে অভিহিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
মেজর হাফিজ বলেন, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার নির্ভীক কণ্ঠের আহ্বানে এদেশের মুক্তিকামী জনতা সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। নিশ্চিত মৃত্যুর পরোয়া না করে তিনি যুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় লাভ অবধি নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী শেখ মুজিব সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে গণতন্ত্রের জন্য এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল, স্বাধীনতা পরবর্তী আওয়ামী লীগ সরকার গণতন্ত্রের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গলাটিপে হত্যা করে একদলীয় রাষ্ট্র গঠন করেছিল। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ মেয়ে শেখ হাসিনাও দেশে একনায়কতন্ত্র কায়েম করে গণতন্ত্রের স্থায়ী কবর রচনা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু গত ১৬টি বছর বিএনপির স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এদেশের ছাত্রসমাজ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে আসে। এদিকে তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে চূড়ান্ত লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন। রচিত হয় নতুন ইতিহাস। ভারতের মদদপুষ্ট স্বৈরাচার ভারতে পালিয়ে গেলেন। ফ্যাসিবাদমুক্ত হলো প্রিয় স্বদেশ।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, শেখ মুজিবের চেয়ে তার মেয়ে আরও বেশি ভয়ংকর। গত ১৬ বছরে কত হাজার মায়ের বুক তিনি খালি করেছেন তার হিসাব নেই। বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীসহ দুই হাজার নেতাকর্মীকে গুম ও নিখোঁজ করেছেন, কিংবা আয়নাঘরে পাঠিয়ে জীবন শেষ করে দিয়েছেন।
শামুসজ্জামান দুদু বলেন, শেখ হাসিনা দম্ভ করে বলতেন মুজিবকন্য নাকি পালায় না। এমন দৌড় দিয়েছেন যে দেশে এমন দৌঁড় আর কেউ দিতে পারেননি। আবার নাকি তিনি ফিরে আসার চিন্তা করছেন। আমি বলতে চাই আপনি দেশে আসেন। কত মানুষকে আপনি খুন করেছেন, কত লাখ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন, গণতন্ত্র হত্যা করেছেন, স্বাধীনতা বিপন্ন করেছেন তার জবাব দিতে হবে। কেন বাংলাদেশের মানুষকে আপনি ভারতের দাসত্বে রূপান্তর করেছিলেন তারও জবাব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যে স্বপ্নকে পূরণ করতে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল, আমরা সেই বাংলাদেশ গড়তে চাই। শহীদ জিয়া যেমন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন, শ্রমিকদের কাজ দিয়েছিলেন, বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছিলেন, তারেক রহমান ও বেগম খালেদায় জিয়া সেই বাংলাদেশ গড়তে চান। আমরা রক্ত দিতে জানি, আন্দোলন করতে জানি, ত্যাগ স্বীকার করতে জানি। এক আল্লাহ ছাড়া বিএনপি কারো কাছে মাথা নত করে না।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তব্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননার শামিল।
বাংলাদেশের বিজয় দিবসকে ১৯৭১ সালে 'ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়' বর্ণনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন,"আজকের এই বিজয় দিবসে, সেইসব নির্ভীক সেনাদের সাহস ও আত্মত্যাগকে আমরা সম্মান জানাই, যারা ১৯৭১ সালে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়ে অবদান রেখেছিল।"







