নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় টানা আন্দোলনের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রও প্রকাশ করেন।
পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, বিষয়টি তার কাছে কোনো ব্যক্তিগত মর্যাদার প্রশ্ন নয়। গত ১০ দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার দায় প্রথম দিন থেকেই তিনি নিজের কাঁধে নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি লেখেন, গণতন্ত্রের শক্তির প্রতি তার অটল বিশ্বাস রয়েছে এবং দেশের তরুণদের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধাশীল। ভারতের ভবিষ্যৎ গঠনে তরুণরাই সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি তাকে মর্মাহত করেছে।
পদত্যাগপত্রে আরও বলেন, দেশের তরুণদের বিভ্রান্তি ও অস্থিরতার মধ্যে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়। যন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পরিস্থিতি যেন কোনো দেশবিরোধী শক্তি অপব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আইনি জটিলতায় না জড়ানো এবং তাদের পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার গঠনে মনোযোগী রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা, আস্থা ও ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান মন্ত্রিপরিষদের সহকর্মী, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কর্মজীবনের সহযাত্রীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের সেবাই তার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
উল্লেখ্য, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন চলছিল। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। এ দাবিকে ঘিরে সিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে আলোচনা অনিশ্চয়তায় পড়ে। গত ২০ জুলাই সিজেপির নেতৃত্বে আয়োজিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির কয়েকদিনের মধ্যেই তার পদত্যাগের ঘোষণা এলো।
ভিওডি বাংলা/আর









মন্তব্য