• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

আগামী ১০০ বছরেও আর গণঅভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১১ জুলাই ২০২৬, ০৪:০৫ পি.এম.
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

জাতীয় সংসদের সাবেক স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানা দাবি করেছেন, বাংলাদেশের মানুষ ভবিষ্যতে সহজে আর কোনো গণঅভ্যুত্থানের পথে হাঁটবে না। তাঁর ভাষ্য, সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কারণে সাধারণ মানুষ এমন কোনো আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আগে বহুবার ভাববে।

শনিবার (১১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বাংলাদেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণ–অভ্যুত্থান হবে না।’ এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানে যে স্বপ্ন ছিল চব্বিশে, শেষবারের মতো মানুষ তার জীবন বাজি রেখেছিল। তারপর যখন দেখল, এটা কতিপয় মানুষের নিজস্ব সম্পত্তি, এটা বাংলাদেশে উগ্রবাদের নতুন উত্থান, অদ্ভুতভাবে কিছু নেই থেকে শতকোটি টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার একটা প্রকল্প, তখন স্বাভাবিকভাবেই গণমানুষ হাজারবার, লক্ষবার, কোটিবার চিন্তা করবে এ রকম গণ–অভ্যুত্থানে যাওয়ার জন্য।’

আলোচনায় তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে হিজাব পরা ও হিজাব ছাড়া নারীরা একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেই পরিবেশ কেন বজায় থাকল না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থানের পর মুক্তিযুদ্ধের ম্যুরাল ও ভাস্কর্য কারা ভাঙল এবং কেন একাত্তর ও চব্বিশকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করানো হলো, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন রুমিন ফারহানা।

গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে ‘ভয়াবহ উগ্রবাদের উত্থান হয়েছে’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি আগে জানা থাকলে আন্দোলনে কতজন মানুষ রাস্তায় নামতেন, সেটিও ভাবার বিষয়।

রুমিন ফারহানা বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের পরও দেশের মানুষ প্রত্যাশিত ফল পায়নি। তাঁর ভাষায়, ‘দেশের সাধারণ মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে এবং প্রতারিত হয়েছে।’

‘চব্বিশেও ব্যর্থ হয়েছি’

রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ১৯৪৭, ১৯৭১ ও ১৯৯০ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জাতিগতভাবে দেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছিল। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতারিত না হওয়ার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের মতো এবারও আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে অংশীজনদের মধ্যে বিভক্তি তৈরির চেষ্টা চলছে। নতুন রাজনীতির কথা বলা ব্যক্তিরাও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কয়েকটা আসনের জন্য বিএনপির দিকে, অথবা সংস্কারের দোহাই দিয়ে কয়েকটা আসনের জন্য কেউ জামায়াতের দিকে চলে গেলেন।’

হাসনাত কাইয়ুম আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ১২টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও পরে সেগুলোকে একটি ‘ঐক্যমত কমিশনে’ সীমাবদ্ধ করে জনগণের প্রত্যাশাকে খাটো করা হয়েছে। তাঁর মতে, জুলাই সনদ এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের মূল প্রস্তাব বাস্তবায়ন করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

‘জনআকাঙ্ক্ষা এখনো উপেক্ষিত’

সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, ২০২৪ সালের পর যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি বলেন, সংস্কার বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে বাংলাদেশ বারবার সংকটে পড়বে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করা তুলনামূলক সহজ হলেও সেই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করা অনেক বেশি কঠিন। তাঁর মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এখন বাংলাদেশের সামনে রয়েছে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেলালুজ্জামান আহমেদ, জেএসডির সহসভাপতি নুরুল আখতার এবং সিরাজ মিয়া।

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: ভিওডি বাংলা গ্রাফিক্স
ডিএমপির অভিযানে ৪৭১ জন গ্রেপ্তার, মামলা ৪৯
ছবি: সংগৃহীত
ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল বড় ভাইয়ের
ছবি: সংগৃহীত
আজ বিএফএর নির্বাচন, দুই পক্ষের বিপরীত অবস্থান