ব্রাজিলের পণ্যে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসাল যুক্তরাষ্ট্র

দীর্ঘ এক বছরের তদন্ত শেষে ব্রাজিল থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, ব্রাজিলের কয়েকটি বাণিজ্যনীতি মার্কিন বাণিজ্যিক স্বার্থের পরিপন্থী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার নতুন এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। দেশটির ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা অনুযায়ী এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, এক বছরব্যাপী তদন্তে ব্রাজিলের ডিজিটাল বাণিজ্য, শুল্কনীতি, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, ইথানল বাজারে প্রবেশের সুযোগ এবং বন উজাড়–সংক্রান্ত নীতিমালাকে মার্কিন বাণিজ্যিক স্বার্থের জন্য প্রতিকূল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, মার্কিন শ্রমিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, ব্রাজিলের কিছু বাণিজ্যনীতি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আরও জানান, গত এক বছরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক দফা আলোচনা হলেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতেও আলোচনার সুযোগ খোলা থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে রয়টার্স জানায়, আলোচনা অচলাবস্থায় থাকায় ব্রাজিল আগে থেকেই নতুন শুল্ক আরোপের আশঙ্কা করছিল এবং সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিচ্ছিল।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেন, ব্রাজিল সরকার আলোচনায় প্রয়োজনীয় আন্তরিকতা দেখায়নি। তার ভাষ্য, প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা অর্থনৈতিক স্বার্থের তুলনায় রাজনৈতিক অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রাজিল। প্রেসিডেন্ট লুলার কার্যালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে নতুন শুল্ক আরোপের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য