পানির নিচে ঢাকার অলিগলি, দুর্ভোগে নগরবাসী

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসের শুরুতেই টানা ভারী বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা। শনিবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া বর্ষণ রোববার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। কোথাও হাঁটুসমান, কোথাও আবার গোড়ালি পর্যন্ত পানি জমে সড়ক, অলিগলি ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় ডুবে যায়। এতে কর্মস্থলমুখী মানুষ, শিক্ষার্থী, রিকশাচালক এবং জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া নাগরিকদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
রোববার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেখা যায়। অনেক জায়গায় ফুটপাত পানির নিচে চলে যাওয়ায় পথচারীরা বাধ্য হয়ে সড়ক দিয়েই চলাচল করেন। ফলে একদিকে যানবাহনের সঙ্গে পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, অন্যদিকে ভোগান্তিও বেড়ে যায় কয়েকগুণ।

মিরপুর, নতুনবাজার, বারিধারা, মতিঝিলসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক-সবখানেই জমে থাকা পানি মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। নিচু এলাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় অনেকেই বাসা থেকে বের হতে দেরি করেন।
সকালের দিকে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও রাস্তায় জমে থাকা পানি দ্রুত নামেনি। ফলে বৃষ্টির তীব্রতা কমলেও জনভোগান্তি কমেনি।
বৃষ্টির মধ্যেই প্রয়োজনের তাগিদে অনেককে বাইরে বের হতে হয়েছে। কারও হাতে ছাতা থাকলেও তাতে খুব একটা স্বস্তি মেলেনি। মাথা ও শরীরের ওপরের অংশ রক্ষা করা গেলেও হাঁটু কিংবা গোড়ালি পর্যন্ত জমে থাকা পানি মাড়িয়ে চলতে গিয়ে জুতা, প্যান্ট ও পোশাক ভিজে যায়। ফলে অফিস বা কর্মস্থলে পৌঁছানোর আগেই অনেকের পোশাক নষ্ট হয়ে যায়।
জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও পানির ভেতর দিয়ে যান চলাচলের সময় সৃষ্ট ঢেউয়ে পথচারীরা আরও বেশি বিপাকে পড়েন। রাস্তার পাশে অপেক্ষমাণ অনেক মানুষও সেই পানিতে ভিজে যান।
সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত পুরোপুরি অফিস সময় শুরু না হলেও যারা আগে বের হয়েছেন, তাদের অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। নগরবাসীর আশঙ্কা, অফিস সময় শুরু হওয়ার পর যানবাহনের চাপ বাড়লে জলাবদ্ধতার সঙ্গে তীব্র যানজটও যুক্ত হতে পারে।
মিরপুরের বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মো. রাকিব হোসেন বলেন, ‘সকালে বের হয়েই দেখি পুরো রাস্তা পানিতে ডুবে আছে। ছাতা নিয়ে বের হলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। হাঁটতে গিয়ে জুতা আর প্যান্ট পুরো ভিজে গেছে। অফিস শুরু হওয়ার আগেই এমন অবস্থা হলে পরে কী হবে, সেটাই ভাবছি।’

একই এলাকার যাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, ‘বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার চেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে রাস্তার পানি। কোথায় গর্ত, কোথায় ম্যানহোল-কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। খুব সাবধানে হাঁটতে হচ্ছে।’
বারিধারা এলাকার রিকশাচালক আবদুল করিম বলেন, ‘পানি বেশি থাকায় রিকশা চালাতে কষ্ট হচ্ছে। অনেক রাস্তা দিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। যাত্রীও কম, আবার যারা উঠছেন তাদেরও কষ্ট হচ্ছে।’
রাজধানীতে বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতার এমন চিত্র নতুন নয়। অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।
তাদের মতে, দ্রুত পানি অপসারণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া রাজধানীকে জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে না।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ছয় ঘণ্টায় ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আকাশ মেঘলা থেকে অস্থায়ীভাবে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। এ সময়ে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য