মিম, প্ল্যাকার্ড আর ব্যঙ্গেই জেন-জি'র প্রতিবাদ
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির "যন্তর মন্তর"। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে হাজারো শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ। তবে এটি শুধু আরেকটি আন্দোলন নয়-এটি জেন জি প্রজন্মের এক ভিন্নধর্মী প্রতিবাদের গল্প। যেখানে স্লোগানের সঙ্গে সমানতালে জায়গা করে নিয়েছে মিম, ব্যঙ্গ, জনপ্রিয় গান আর ভাইরাল ট্রেন্ড।
২০ জুন যন্তর মন্তরে শুরু হয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’-এর নেতৃত্বে এই আন্দোলন। নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পরে দিল্লি ছাড়িয়ে ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও আন্দোলনের আরেকটি বড় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়।

বিক্ষোভকারীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডেও দেখা গেছে অভিনব সব বার্তা। কেউ লিখেছেন, "চাকরি কম, তাই শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করছেন না।" আবার কেউ করপোরেট চাকরির সঙ্গে তুলনা করে ব্যঙ্গ করেছেন, "সম্ভবত শেষ মাসের বেতন পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি।"
যন্তর মন্তরে পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার ঘটনাও বাদ যায়নি। আন্দোলনকারীরা সেই ভিডিওগুলোতে যোগ করেছেন 'চাক দে ইন্ডিয়া', 'ভাগ মিলখা ভাগ', 'গ্যাংনাম স্টাইল' এমনকি জনপ্রিয় মোবাইল গেম 'সাবওয়ে সার্ফার'-এর সাউন্ডট্র্যাক। একটি ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা ছিল, "কার্ডিও করানোর জন্য ধন্যবাদ, দিল্লি পুলিশ!"

আন্দোলনে যাওয়ার আগে অনেকেই GRWM (Get Ready With Me) ও OOTD (Outfit of the Day) ধাঁচের ভিডিও পোস্ট করেছেন। এক তরুণীর মন্তব্য, "সরকারের পতন দেখতে প্রস্তুত হচ্ছি। সঙ্গে আছে মেরুদণ্ড, ঝুমকা আর সাংবিধানিক অধিকার।" আরেকজন লিখেছেন, "আমার আইলাইনার টিকে গেছে, কারণ এর ভিত্তি সরকারের মতো দুর্বল নয়।"
পরিবেশ নিয়েও ছিল ব্যঙ্গ। কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের পর এক পোস্টে লেখা হয়, "দিল্লি পুলিশ, টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করবেন না, এতে শহরের দূষণ বাড়ে।" আরেকটি পোস্টে কৌতুক করে বলা হয়, "এই কাঁদানে গ্যাস অন্তত শতভাগ বিশুদ্ধ।"
বিক্ষোভে দেখা গেছে ব্যাটম্যান, স্পাইডার-ম্যান, সুপারম্যান ও আয়রন ম্যানের পোশাকে অংশগ্রহণকারীদের। কেউ আবার আমির খানের 'পিকে' চরিত্র সেজে হাজির হয়ে ব্যঙ্গাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে এসব ভিডিও মুহূর্তেই ভাইরাল হয়েছে।

এমনকি ব্যক্তিগত অনুভূতিকেও মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে আন্দোলনের ভাষায়। টিয়ার গ্যাসে লাল হয়ে যাওয়া চোখের ছবি পোস্ট করে একজন লিখেছেন, "আজ টিয়ার গ্যাসে তাদের কথা মনে করে কেঁদে ফেললাম।" আরেকজন মাটিতে শুয়ে থাকা ছবি দিয়ে লিখেছেন, "এতটা উপেক্ষা তো ওরাও করেনি!"
জেন জির এই অভিনব প্রতিবাদ এখন শুধু রাজপথেই সীমাবদ্ধ নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন এক আন্দোলনের ভাষা তৈরি করেছে।
ভিওডি বাংলা/তা









মন্তব্য