চিতলমারী থানা শ্রমীকদলের ৩ নেতার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

কমিটি বাণিজ্য ও সালিশের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে। কমিটি বাণিজ্য ও সালিশি করে টাকা আত্মসাৎ ছাড়াও বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে দালালি করে অর্থ হাতানোর অভিযোগও রয়েছে এই নেতাদের বিরুদ্ধে। গত ০২ নভেম্বর চিতলমারী উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক গাজীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছে চিতলমারী উপজেলা সেনা ক্যাম্পে। ওই অভিযোগ করেছেন সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগের বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষ মিলে। সালিশের বাদী মনিরুজ্জামান ফকিরকে সুষ্ঠু বিচার পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে এক লক্ষ টাকা দাবি করেন এনামুল গাজী এবং বিবাদী হাজী মামুন এর কাছে পন্ঞাশ হাজার টাকা দাবি করেন অভিযোগ থেকে পরিত্রাণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে। উভয়ের কাছে টাকা চাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে বাদী এবং বিবাদী মিলে এনামুল হক গাজীর বিরুদ্ধে সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার দায়িত্বরত সেনা কর্মকর্তা তাকে হেফাজতে নিলে আরো দু-তিনটি অভিযোগ জমা পড়ে এনামুলের বিরুদ্ধে।
এর আগে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে এনামুল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল খানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিল। ওই সময় তিনি বাবুল খানের সাথে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে অংশগ্রহণ করতেন এবং ক্ষমতার দাপট দেখাতেন।
এদিকে একই সংগঠনের চিতলমারী উপজেলা সভাপতি টিপু শিকদারের বিরুদ্ধেও রয়েছে আওয়ামী সখ্যতা এবং নিজ সংগঠনের কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ। টিপু শিকদার গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চিতলমারী সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিজাম উদ্দিনের পক্ষে পুরো নির্বাচনকালীন সময়জুড়ে প্রচারণায় অংশ নেন এবং প্রকাশ্য মিছিল-মিটিং করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সাথে।
যেখানে গত ইউপি নির্বাচনে বিএনপি'র কেন্দ্র থেকে দলের সকল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং প্রচারণায় অংশ না নেওয়ার জন্য কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়, সেখানে টিপু শিকদার প্রকাশ্যে আওয়ামী প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েও কিভাবে সংগঠনটির সভাপতির পদে বহাল রয়েছেন তা প্রশ্ন তুলেছেন নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বিএনপি নেতা ।
এদিকে বিগত দিনে টিপু-এনামুলের বিরুদ্ধে উপজেলার প্রায় সকল ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডের কমিটি বাণিজ্য করার অভিযোগ তুলেছেন নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ঐ সকল স্থানীয় নেতারা। এমন বিতর্ক-সমালোচনার মধ্যেও থেমে নেই টিপু -এনামুলের কমিটি বাণিজ্য।
স্থানীয় ৪নং শিবপুর ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আসলাম শেখ কে পদয়নের আশ্বাস দিয়ে হাতিয়েছেন চল্লিশ হাজার টাকা। আসলাম শেখের বক্তব্য অনুযায়ী, শিবপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমের মধ্যস্থতায় টিপু শিকদারকে পনেরো হাজার টাকা, এনামুল গাজীকে দশ হাজার টাকা এবং ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি কবির খানকে ১৫ হাজার টাকা দিয়েছেন।
অন্যদিকে চিতলমারী উপজেলার সকল বাস-টেম্পু স্ট্যান্ড থেকে টিপু এনামুলের ছত্রছায়ায় চাঁদা উঠাচ্ছেন উপজেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম গাজী। এই আসলাম গাজীর বিরুদ্ধে সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতাদের কাছ থেকে নিত্য-নতুন অজুহাতে অর্থ হাতানোর অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।







