• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

‘জিয়া বেঁচে থাকলে ইসরায়েল অপকর্ম করার সাহস করতো না’

   ১০ এপ্রিল ২০২৫, ০৮:৩১ পি.এম.

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিকালে লাখো মানুষের সমাবেশ-মিছিল করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার বিকালে নয়া পল্টনে সড়কে ‘গাজা ও রাফায় গণহত্যার প্রতিবাদে ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশে’ এই সমাবেশ ও মিছিল হয়। কাকরাইল থেকে ফকিরেরপুল পর্যন্ত পুরো সড়কে মানুষের ঢল নামে।

ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুব দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, ছাত্র দলসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থকরা এই মিছিলে অংশ নেয়…নেতা-কর্মীদের অনেকের হাতে ছিলো বাংলাদেশ এবং প্যালেস্টাইনের জাতীয় পতাকা।

মিছিলটি কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ মৌচাক, মগবাজার, বাংলা মোটর হয়ে সোনারগাঁও মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকার দলের অঙ্গীকারের কথা দৃপ্ত কন্ঠে ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা ফিলিস্তিনিদের পাশে, পাশে থাকব। আমরা যদি কার্য্কর পদক্ষেপ না নেই, যদি জাতিসংঘ পদক্ষেপ না নেয়, যদি আমরা যারা এই অপকর্মের সহযোগী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আমরা না নেই, ইজরায়েলিদের এই অত্যাচার চলতেই থাকবে। আমরা এটাও খেয়াল করেছি, শুধু ফিলিস্তিনে নয়, আমাদের প্রতিবেশী দেশেও মুসলমানদের অত্যাচার হচ্ছে। আমরা সেটার প্রতিবাদ করি না। ইনশাল্লাহ যেখানে মুসলমানদের বিরুদ্ধে অত্যাচার করা হবে সেখানে আমরা প্রতিবাদ করব।’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আজকের এই প্রতিবাদ মিছিলটি অস্বাভাবিক রকম বড় হয়েছে… আমাদের অনেক মিটিংয়ের চেয়ে অনেক বড় হয়েছে। এই মিছিলে শুধুমাত্র বিএনপির কর্মীরা নয়… এই মিছিলে ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভাইয়েরা অংশ গ্রহন করেছে।আমি এজন্য তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ মোবারকবাদ জানাচ্ছি। এই মিটিং এই প্রতিবাদ সভায় আমার আসার একটাই মাত্র উদ্দেশ্যে স্বশরীরে আজকে ফিলিস্তিনিদের জন্য কিছু করতে পারছি না… অসহায় কান্নায় ভেঙে পড়তে হয়… যদি একটা কিছু একটা আমরা করি এজন্য এসেছি।’

‘মুসলিম বিশ্বের একতা জরুরী’

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘ফিলিস্তিনে যে অত্যাচার হচ্ছে,যে নারকীয় ঘটনা ঘটছে তা দেখে আমার মনে হচ্ছে যে, এটা আজকে আমরা ভাবতে পারি… এটা ফিলিস্তিনি মুসলমানদের প্রতি অত্যাচার করা হচ্ছে… আজকে ফিলিস্তিনিদের নিধন করা, অত্যাচার করা হচ্ছে এটা আমরা ভাবতে পারি। আসলে বিষয়টা কিন্তু তা নয়। ওরা ধীরে ধীরে সারা বিশ্বের মসুলমানদের একসময় নিঃশেষ করে দেয়ার চেষ্টা করছে।মসুলিম বিশ্বের যে সকল মোড়ল দেশ নিজেদের রাজত্ব বাঁচানোর জন্য, নিজেরা বেঁচে থাকার জন্যে আজকে নেতৃত্ব দিচ্ছে না। তাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ নেমে পড়বে। তারা নেতৃত্ব দিলে এই মুসলিম বিশ্বকে যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ করতে পারতাম…. যদি মুসলিম বিশ্ব ঐক্যবদ্ধ হতো তাহলে আজকে এই ইহুদিরা, এই ইসরায়েলিরা এই অত্যাচার করতে পারতো না।’

তিনি বলেন, ‘যারা বিশ্বের মুসলিমরা আজকে আমরা খন্ড-বিখন্ড হয়ে গেছি। আমরা মুখের কথা তুগলি বাজিয়ে আমরা বলার চেষ্টা করছি ফিলিস্তিদের বাঁচাও ফিলিস্তিনিদের বাঁচাও।’

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির উদ্যোগে এই র‌্যালী মিছিল হয়। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যগণসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দরা ছিলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আজকে আমার মনে পড়ছে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কথা… আমি কৃতজ্ঞচিত্রে তাকে স্মরণ করছি যিনি ইরাক-ইরান যুদ্ধ বন্ধে হস্তক্ষেপ করেছিলেন।আমি বিশ্বাস করি, যদি আজকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া বেঁচে থাকতেন এমন ভূমিকা নিতেন যে ইসরায়েল এই অপকর্ম করার সাহস করতো না। বাংলাদেশে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন… জিয়াউর রহমান দরকার, এই জিয়াউর রহমান যিনি সারা বিশ্বের মুসলিমকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের নেতা তারেক রহমান তার যোগ্য উত্তরসূরী। আজকের এই সময়ে যদি আমি বলি, আমাকে আপনারা বলবেন চামচাগিরি করতেছি। না চামচা না… উনি পারবেন, সারা বিশ্বের মুসলমানরা, সারা বিশ্বের মানুষ, আমরা উনার পেছনে থাকব।’

‘ইসরায়েলিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে’

স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা আজকে এই সভা থেকে দাবি করি, নৃশংস অত্যাচারী ইজরাইয়েল সরকার এবং তার বাহিনীগুলোকে প্রতিহত করার ব্যবস্থা নেয়া হোক… নিরাপরাধ নারী-পুরুষ-শিশুদের হত্যার এই নৃশংসতা অবিলম্বে বন্ধ করা হোক। আমরা বিশ্বের সব মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই ঐক্যবদ্ধভাবে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো দরকার। যারা ইজরায়েলকে সমর্থন করে তাদেরকে… তাদের মত এবং পথ পরিবর্তনের জন্য মুসলিম বিশ্ব যার যার ভূমিকা পালন করতে পারে… আমাদের বাংলাদেশে যে অন্তর্জতীকালীন সরকার আছে আমরা তাদের কাছে অনুরোধ করব এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার জন্য।কারণ এটা কোনো মতেই গ্রহনযোগ্য না ক্রমাগত অব্যাহতভাবে একটা জাতিসত্তা্কে নিঃশেষ করার জন্য এই খুন এই নৃশংসতা চালিয়ে যাওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘যারা এই অপকর্ম সহ্য করে তারাও মানবতা বিরোধী কাজ করছে। আমি দাবি করব, ইজরায়েলের এই মানবতা বিরোধী অপরাধ দমন করার জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন তা করা উচিত।আমার বন্ধুরা বলেছেন, ইজরায়েলি পণ্য বয়কটের কথা। আমি এটা সমর্থন করে বলছি, বয়কট মানে কি? বয়কট হলো আমি এই পণ্য ব্যবহার করব না … এমন কি কেউ যদি আমাকে উপহার হিসেবে দেয় আমি সেটা গ্রহন করব না। কিন্তু আমি দেখেছি, আমাদের দেশেও কিছু কিছু জায়গায় ইজরায়েলি প্রতিষ্ঠান বলে আক্রমণ করা হচ্ছে… সেখান থেকে কিছু জিনিস লুটপাট করা হচ্ছে।আমরা যেটা বর্জন করতে চাই সেটা কেড়ে নেয়ার চেষ্টাও কিন্তু অপরাধ। কাজেই আমি অনুরোধ করব, আমাদের সবটুকু ঘৃণা দিয়ে, সব টুকু সাহস দিয়ে আমরা ফিলিস্তিতি জনগনের পক্ষে থাকব।’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এমন শক্তি বাংলাদেশে আছে, যারা আমাদের মতের সাথে একমত না। তারা এই আন্দোলনটাকে দূর্বল করার জন্য আমাদের এই আন্দোলনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করবে, টাকা-পয়সা খরচ করেও চেষ্টা করবে, এখানে অনুপ্রবেশকারী ঢুকিয়ে চেষ্টা করবে। কাজেই যদি কেউ বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করে বুঝবেন তারা প্রকৃত স্বৈরাচারের লোক, তারা ইজরায়েলের লোক, তারা ফিলিস্তিনিদের হত্যাকারীর পক্ষের লোক।তাদেরকে প্রতিহত করবেন আপনারা।মারপিট না… থানায় পুলিশের কাছে তুলে দেবেন তাদেরকে।”

‘১৮ কোটি মানুষ ফিলিস্তিনিদের পক্ষে’

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘জাতিধর্ম নির্বিশেষে যেকোনো মানুষকে হত্যা করা এটা বড় অপরাধ। ফিলিস্তিনে সেই অপরাধ করছে ইজরায়েলিরা। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে মনে করি, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ, দলমত নির্বিশেষে প্রত্যেকে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে, প্যালেস্টাইনের পক্ষে  এবং ইজরায়েলের বিপক্ষে লড়াই করছে।’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমাদের দেশে একটা সরকার আছে..যে নামে ডাকেন না কেনো, সরকারের কাছ থেকে ফিলিস্তিনিদের সম্পর্কে এখনো আওয়াজ পাইলাম না কেনো? আমাদের দেশে অনেক বুদ্ধিজীবী আছে, সুশীল সমাজ আছে…তিন‘শ , পাঁচশ বিবৃতি বিভিন্ন সময়ে তারা দেন.. এখনো তাদের ফিলিস্তিনিদের পক্ষে সাড়া মিলছে না কেনো? কি কারণে?’

‘ইন্দো-মার্কিন ষড়যন্ত্রে ফিলিস্তিনিরা আজকে নির্যাতিত’

স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ইন্দো-মার্কিন ষড়যন্ত্রের কারণে আজকে ফিলিস্তিনি জনগন গণহত্যা, নিপীড়নের শিকার হচ্ছে যুগের পর যুগ, দশকের পর দশক। তার কোনো প্রতিকার আমরা দেখছি না। জাতিসংঘের কোনো রেজুলেশনের তোয়াক্কা ইজরায়েলিরা করে না, জাতিসংঘের কোনো সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেয় নাই।আজকে সারা বিশ্বে এবং কি যুক্তরাষ্ট্রেও ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ব্যাপকভাবে আন্দোলন হচ্ছে কিন্তু এই গণহত্যা বন্ধের কোনো ইশারা ইংগিত দেখছি না। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং অবিলম্বে গণহত্যা বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিনের আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনুর সভাপতিত্বে ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হকও  বক্তব্য রাখেন।

মিছিলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, আবদুস সালাম পিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, আবদুস সালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় নেতা রফিকুল ইসলাম, রকিবুল ইসলাম বকুল, শামীমুর রহমান শামীম, সাইফুল আালম নিরব, যুব দলের আবদুল মোনায়েম মুন্না, নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানি, রাজীব আহসান, কৃষক দলের হাসান জাফির তুহিন, শহিদুল ইসলাম বাবুল,মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, সুলতানা আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা দলের ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, তাঁতী দলের আবুল কালাম আজাদ, মৎস্যজীবী দলের আবদুর রহীম, ছাত্র দলের রাকিবুল ইসলাম বকুল, নাছির উদ্দীন নাছির প্রমূখ ছিলেন।

ভিওডি বাংলা/এমপি/ এমএইচ


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সংসদকে প্রাণবন্ত করতে কাজ করবে নারী এমপিরা : মির্জা ফখরুল
সংসদকে প্রাণবন্ত করতে কাজ করবে নারী এমপিরা : মির্জা ফখরুল
ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের যুগ্ন সম্পাদক হলেন নাগেশ্বরীর হাফিজুর
ঢাকা উত্তর ছাত্রদলের যুগ্ন সম্পাদক হলেন নাগেশ্বরীর হাফিজুর
তদবিরবাজদের ভীড়ে ত্যাগীরা যেন তীর্থের কাক
তদবিরবাজদের ভীড়ে ত্যাগীরা যেন তীর্থের কাক