‘মানবতার সেবায় এগিয়ে এলে বড় সমস্যারও সমাধান সম্ভব’
মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ালে দেশের বড় বড় সমস্যারও সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, ‘ভালো কাজের হোটেল’-এর মতো মানবিক উদ্যোগ শুধু ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবারই তুলে দিচ্ছে না, পরিবেশ সংরক্ষণেও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর কাওরানবাজার মোড়সংলগ্ন পান্থ কুঞ্জ পার্কে ‘ভালো কাজের হোটেল’-এর নতুন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসক বলেন, ‘মানুষের জন্য মানুষ’-এই দর্শনকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে ‘ভালো কাজের হোটেল’। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি ক্ষুধার্ত ও অসহায় মানুষের জন্য নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করে আসছে। ফলে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ অন্তত একবেলার খাবার পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসসহ নানা দুর্যোগে দেশের মানুষ যেভাবে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাতে মানবিকতাই বাঙালির সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু ইহকাল নয়, পরকালেও কল্যাণ বয়ে আনবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুড়িগ্রামসহ দেশের ১৭টি স্থানে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার হাজার ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষকে বিনা মূল্যে খাবার দেয় ‘ভালো কাজের হোটেল’। খাবারের বিনিময়ে অর্থ নেওয়া হয় না; বরং প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হয় একটি ‘ভালো কাজ’। এবার সেই ভালো কাজের তালিকায় যুক্ত হয়েছে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, ডাবের খোসা, পুরোনো টায়ারসহ পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন বর্জ্য।
এ প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, রাজধানীতে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য। এসব বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য রাখা কঠিন হবে। ভালো কাজের হোটেল এ ক্ষেত্রে একটি অনুকরণীয় উদ্যোগ নিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা, অর্থাৎ বছরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, এই সহায়তা প্রতিষ্ঠানটির মানবিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।
ঢাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভালো কাজের হোটেলের মতো আরও সামাজিক উদ্যোগ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে রাজপথে একটি টিস্যুও না ফেলে নগর পরিচ্ছন্ন রাখার অভ্যাস গড়ে তুললে ঢাকা আরও বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।
পরিবেশ রক্ষার প্রসঙ্গ টেনে আবদুস সালাম বলেন, ঢাকার বায়ুদূষণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তাই ব্যাপক বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। ভালো কাজের হোটেলের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভিওডি বাংলা/জা









মন্তব্য