• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
সার্কের অচলাবস্থা নিরসনে বাংলাদেশ-মালদ্বীপ ঐকমত্য জনবান্ধব পুলিশ গঠনে পুরস্কার ও তিরস্কারের নীতি চলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চা শিল্পের সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে চার্জ শুনানি ১৩ আগস্ট বিদেশ যাচ্ছেন সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ফুটপাতের জন্য ১৫৪ গাছ কাটার উদ্যোগ, ক্ষুব্ধ নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নবনিযুক্ত চুক্তিভিত্তিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিল ইসলামী আন্দোলন: চরমোনাই পীর যাত্রাবাড়ীতে ৭০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনেই উত্থান, সেই প্রশ্নফাঁসের জেরেই ধর্মেন্দ্রর বিদায়

মানুষের আগেও কি পৃথিবীতে কোনো সভ্যতা ছিল, যা বলছে গবেষণা

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:  ২৬ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৮ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মানুষই কি পৃথিবীর প্রথম উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সভ্যতা? নাকি কোটি কোটি বছর আগে এই গ্রহে এমন আরেকটি বুদ্ধিমান সভ্যতা ছিল, যারা শক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তি ও শিল্পায়নের মাধ্যমে নিজেদের পৃথিবী গড়েছিল—এবং শেষ পর্যন্ত জলবায়ু পরিবর্তন বা অন্য কোনো বিপর্যয়ে বিলীন হয়ে গেছে?

প্রশ্নটি শুনতে বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও, একদল বিজ্ঞানী এটিকে গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করেছেন। তাদের মতে, এমন কোনো সভ্যতা থাকলে পৃথিবীতে তার কোনো চিহ্ন আজও রয়ে যেতে পারে কি না—এটি বৈজ্ঞানিকভাবে অনুসন্ধান করার মতো একটি প্রশ্ন।

এই ধারণাই পরিচিত "সিলুরিয়ান হাইপোথিসিস" নামে।

২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্ট অ্যাডাম ফ্র্যাঙ্ক নাসার জলবায়ু বিজ্ঞানী গ্যাভিন শ্মিটের সঙ্গে দেখা করতে যান।

ফ্র্যাঙ্ক তখন গবেষণা করছিলেন—মহাবিশ্বের অন্য গ্রহে যদি উন্নত সভ্যতা থাকে, তারা কি মানুষের মতোই নিজেদের গ্রহের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হতে পারে?

আলোচনার একপর্যায়ে তিনি বলেন, পৃথিবীতে তো মানুষের আগে আর কোনো উন্নত সভ্যতা ছিল না।

সঙ্গে সঙ্গে শ্মিট প্রশ্ন করেন, "আপনি এত নিশ্চিত হলেন কীভাবে?"

সেই প্রশ্ন থেকেই জন্ম নেয় নতুন গবেষণার ধারণা।

২০১৮ সালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীরা এই ধারণার নাম দেন "সিলুরিয়ান হাইপোথিসিস"।

নামটি নেওয়া হয়েছে জনপ্রিয় ব্রিটিশ বিজ্ঞান কল্পকাহিনি সিরিজ "ডক্টর হু"-এর কাল্পনিক সরীসৃপজাতীয় উন্নত প্রাণী "সিলুরিয়ান" থেকে।

গবেষণাটির উদ্দেশ্য কোনো প্রাচীন সভ্যতার অস্তিত্ব প্রমাণ করা নয়; বরং এমন সভ্যতা থাকলে তারা পৃথিবীতে কী ধরনের বৈজ্ঞানিক চিহ্ন রেখে যেতে পারত, তা বিশ্লেষণ করা।

গবেষণার কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—যে কোনো উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর সভ্যতা কি একসময় নিজেদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গ্রহের জলবায়ু বদলে ফেলে?

মানুষ বর্তমানে কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড বায়ুমণ্ডলে ছেড়ে দিচ্ছে। এর ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে, বরফ গলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে।

বিজ্ঞানীরা জানতে চেয়েছেন—অতীতে যদি আরেকটি প্রযুক্তিনির্ভর সভ্যতা থেকেও থাকে, তারাও কি একই ধরনের ভুল করেছিল?

৫৫ মিলিয়ন বছর আগের রহস্য: গ্যাভিন শ্মিটের আগ্রহের পেছনে রয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসের একটি অমীমাংসিত ঘটনা।

প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে হঠাৎ করেই বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রায় ১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত বেড়ে যায়।

বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ কার্বন প্রবেশ করে এবং বহু বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়ে।

এই ঘটনাকে বলা হয় প্যালিওসিন-ইওসিন থার্মাল ম্যাক্সিমাম (PETM)।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, বিশাল আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত অথবা মিথেন গ্যাসের আকস্মিক নির্গমনের কারণে এটি ঘটেছিল। তবে প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

শ্মিটের মতে, সেই সময়ের জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে বর্তমান মানবসৃষ্ট জলবায়ু সংকটের কিছু মিল রয়েছে।

যদি কোনো উন্নত সভ্যতা কোটি বছর আগে পৃথিবীতে থেকেও থাকে, তবে তাদের শহর, ভবন বা যন্ত্রপাতি কি আজও পাওয়া সম্ভব?

বিজ্ঞানীদের উত্তর—সম্ভবত না।

কারণ কোটি কোটি বছরে পৃথিবীর ভূত্বক ব্যাপকভাবে বদলে যায়। টেকটোনিক প্লেটের সঞ্চালন, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিকম্প, ক্ষয় এবং সমুদ্রের তলদেশে ডুবে যাওয়ার মতো প্রক্রিয়ায় পুরোনো ভূখণ্ড প্রায় সম্পূর্ণ পাল্টে যায়।

তাই ভবন বা রাস্তার মতো স্থাপনা দীর্ঘ সময় টিকে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম গবেষকরা জীবাশ্মের দিকেও নজর দিয়েছেন। কিন্তু পৃথিবীর অধিকাংশ প্রাণীরই কখনো জীবাশ্ম তৈরি হয় না।

ডাইনোসর পৃথিবীতে প্রায় ১৮ কোটি বছর বিচরণ করলেও এখন পর্যন্ত মাত্র কয়েক হাজার প্রায় সম্পূর্ণ জীবাশ্ম পাওয়া গেছে।

সে হিসেবে মাত্র এক লাখ বছর স্থায়ী কোনো সভ্যতার অস্তিত্ব জীবাশ্মে ধরা পড়ার সম্ভাবনাও অত্যন্ত কম।

রাসায়নিক চিহ্ন হতে পারে সবচেয়ে বড় প্রমাণ

বিজ্ঞানীদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র লুকিয়ে থাকতে পারে পৃথিবীর শিলাস্তরে।

যেমন যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন-এর বিভিন্ন স্তরে পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন সময়ের রাসায়নিক ইতিহাস সংরক্ষিত রয়েছে।

যদি কোনো প্রাচীন সভ্যতা শিল্পায়নের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ছেড়ে থাকে, তাহলে সেই পরিবর্তনের চিহ্ন শিলাস্তরে রয়ে যেতে পারে।

গবেষণায় বিজ্ঞানীরা আরও বিশ্লেষণ করেছেন, বর্তমান মানবসভ্যতা বিলীন হয়ে গেলে ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীরা কী কী প্রমাণ খুঁজে পেতে পারেন।

এর মধ্যে রয়েছে— প্লাস্টিকের বিপুল স্তর, কৃষিতে ব্যবহৃত কৃত্রিম হরমোন, পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী রাসায়নিক পদার্থ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রে ব্যবহৃত ভারী ধাতু এবং 
শিল্পায়নের ফলে সৃষ্ট কার্বনের রাসায়নিক স্বাক্ষর- এসব উপাদান কোটি বছর পরের পলিমাটির স্তরেও শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ববিদ ও জীবাশ্মবিজ্ঞানী অধ্যাপক জ্যান জালাসিয়েভিচ এই ধারণাকে "অত্যন্ত আকর্ষণীয়" বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে তার মতে, পৃথিবীতে মানুষের মতো প্রযুক্তিনির্ভর সভ্যতা আগে থাকলে তার আরও স্পষ্ট ভূতাত্ত্বিক ও রাসায়নিক প্রমাণ পাওয়া যেত।

তিনি বলেন, "কল্পনা করা যায় যে কোনো ডাইনোসর হয়তো জটিল সঙ্গীত গাইতে পারত, কিংবা জুরাসিক যুগের কোনো প্রাণী কবিতা লিখতে পারত। কিন্তু শহর নির্মাণ, ধাতু গলানো, প্লাস্টিক উৎপাদন কিংবা বিপুল শিল্পবর্জ্য—এসবের চিহ্ন পৃথিবীতে স্পষ্টভাবেই থেকে যেত।"

তার মতে, মানুষের মতো ব্যাপক শিল্পায়িত সভ্যতা অতীতে ছিল—এমন সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

অ্যাডাম ফ্র্যাঙ্কের মতে, এই গবেষণার উদ্দেশ্য অতীতের হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা খুঁজে বের করা নয়।

বরং এটি মানুষকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে বাধ্য করে।

আমরা কি এমন একটি সভ্যতা, যারা প্রযুক্তি তৈরি করতে পেরেছি, কিন্তু সেই প্রযুক্তির কারণে তৈরি হওয়া জলবায়ু সংকট সামাল দেওয়ার মতো যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করতে পারিনি?

ফ্র্যাঙ্কের ভাষায়, "হয়তো আমরা পৃথিবীর একটি পরীক্ষা মাত্র। প্রশ্ন হলো—সেই পরীক্ষায় আমরা শেষ পর্যন্ত সফল হব, নাকি ব্যর্থ?"

এই কারণেই সিলুরিয়ান হাইপোথিসিস কেবল অতীতের রহস্য নয়; বরং বর্তমান মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়েও এক গভীর বৈজ্ঞানিক প্রশ্ন তুলে ধরে।

সূত্র: সিএনএন

ভিওডি বাংলা/বিন্দু


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানলের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকা আগুনে পুড়ে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, নিরাপদ আশ্রয়ে তিন লাখ মানুষ
ছবি: সংগৃহীত
মিসাইল শেষ হওয়ার শঙ্কায় ইরানে মার্কিন হামলা বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত
সিরিয়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩৫