চাঁদপুরের হাইমচরে চাঁদার টাকা না পেয়ে জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়া এক প্রবীণ ব্যক্তি ও তার স্বজনদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টা ১০ মিনিটে হাইমচর উপজেলার পূর্ব ভিঙ্গুলিয়া এলাকার বাইতুন নূর জামে মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় কালু গাজী দীর্ঘদিন ধরে মান্নান শেখের (৬২) কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর মান্নান শেখের পথরোধ করে আবারও চাঁদা দাবি করা হয়। তিনি রাজি না হলে কালু গাজী ও তার সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে তার ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
এ সময় মান্নান শেখকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন তার দুই ভাই আব্বাস শেখ (৬৮) ও মোজাফফর শেখ (৬৫) এবং ভাতিজা জসিম শেখ (৩০)। হামলাকারীরা তাদের ওপরও আক্রমণ চালায়। এতে চারজনই গুরুতর আহত হন। এ সময় তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে প্রতিবেশী শিশু শাহজাহান তফাদার (১০) আহত হয়।
স্থানীয় মুসল্লি ও পথচারীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মান্নান শেখের স্ত্রী ফরিদা বেগম বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে হাইমচর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, চাঁদা না দেওয়ায় তার স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ভিওডি বাংলা/আ









মন্তব্য