মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিকনেসান্স ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ইরাক সীমান্তসংলগ্ন খুজেস্তান প্রদেশের আহভাজ শহরের আকাশসীমায় উড়তে থাকা ড্রোনটি গুলি করে নামানো হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে ইরানের এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন বিমান বাহিনীর তথ্যমতে, এমকিউ-৯ একটি অত্যাধুনিক দূরনিয়ন্ত্রিত চালকবিহীন বিমান (ড্রোন)। এটি দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি, লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজন হলে নির্ভুল বিমান হামলা পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এই ড্রোন ব্যবহার করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরান। এসব হামলার জেরে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনাটি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
অন্যদিকে কুয়েতের সামরিক বাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তারা জানায়, বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের যে শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুপক্ষের হামলা প্রতিহত করার ফল।
এর আগে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করে, কুয়েতের ক্যাম্প বুহরিংয়ের গোলাবারুদের ডিপো এবং আলি আল সালেম বিমানঘাঁটির বিমান প্রতিরক্ষা রাডার লক্ষ্য করে বড় পরিসরে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
শুধু কুয়েত নয়, প্রতিবেশী বাহরাইনেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে তেহরান। এ ঘটনার পর দেশটিতে বিমান হামলার সতর্কীকরণ সাইরেন বাজানো হয়।
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য