ইউক্রেনে বৃহৎ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাশিয়ার

ইউক্রেনে চলমান চার বছরেরও বেশি সময়ের যুদ্ধের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
রোববার (১৯ জুলাই) রাতভর চালানো এই ব্যাপক হামলায় রাজধানী কিয়েভকে প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয় বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া আকাশ ও স্থলভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিপুলসংখ্যক হামলাকারী ড্রোন ব্যবহার করে সমন্বিত আক্রমণ চালায়। হামলার মূল লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ।
সিএনএনের সাংবাদিকরা জানান, রাতজুড়ে কিয়েভে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ধোঁয়ার তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে এবং তখনও বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, রাশিয়া ৪০টিরও বেশি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২০টি হামলাকারী ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর অধিকাংশই কিয়েভকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়।
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেন, প্রায় চার ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর একদিনে ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যার দিক থেকে সর্বোচ্চ বলে মনে করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১২৬টি আকাশীয় লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস বা নিষ্ক্রিয় করেছে। এর মধ্যে ছিল ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১০৮টি ড্রোন।
হামলার পর প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে কিয়েভে বিশাল গর্ত, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ভবন এবং আগুনে পোড়া স্থাপনার দৃশ্য দেখা গেছে।
ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীর অন্তত পাঁচটি জেলায় হামলার আঘাত লাগে। এতে অন্তত একজন নিহত এবং ১৬ জন আহত হয়েছেন।
হামলার পর জেলেনস্কি বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ এখন ইউক্রেনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, প্রতিদিনই প্রতিরোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজন হচ্ছে এবং যেসব মিত্র দেশ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করছে, তাদের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রাশিয়ার এই নতুন হামলা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: সিএনএন
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য