• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানে নিহত ৩৮, আহত ৪ শতাধিক কাশ্মীরে বিক্ষোভে হতাহত, নিরপেক্ষ তদন্ত চায় জাতিসংঘ কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্স আর নেই, শোকস্তব্ধ ক্রিকেট বিশ্ব বাহরাইনে মার্কিন ড্রোন ডিপো ও এআই কেন্দ্র ধ্বংস, দাবি আইআরজিসির ফাইনালে চিরচেনা জার্সিতেই লড়বে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মহেশখালীর দুর্গম পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির আস্তানায় অভিযান, গ্রেপ্তার সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রধান ফাইনালে নতুন ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় ফুটবল জাদুকর মেসি ইরানে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, বাড়ছে উত্তেজনা সকালের মধ্যেই ঝড় হতে পারে দেশের যেসব অঞ্চলে দুই মাসের শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগে চাচি গ্রেপ্তার

রাজারহাটে ২ দিনে ২০ বাড়ি নদী গর্ভে বিলিন

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি    ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ এ.এম.
তিস্তার ভাঙনে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। ছবি: সংগৃহীত
তিস্তার ভাঙনে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও আবাদি জমি। ছবি: সংগৃহীত

তিস্তা নদীর পানি কমতে শুরু করতেই কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় নতুন করে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। গত দুই দিনে উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ এলাকায় নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে অন্তত ২০টি বসতবাড়ি। হুমকির মুখে রয়েছে আরও প্রায় তিন শতাধিক ঘরবাড়ি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে ভাঙনকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তিস্তার ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীর তীব্র স্রোত ও বাতাসের কারণে প্রতিনিয়ত নদীতে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, গাছপালা ও বসতভিটা। ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও অনেক স্থানে তা নদীর স্রোতে টিকছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানান, পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে তিস্তার তীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের মাত্রা আরও বেড়েছে। নদীর পাড়ে বসবাসকারী পরিবারগুলো ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে অনেকেরই যাওয়ার মতো বিকল্প জায়গা নেই।

চর বিদ্যানন্দ গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, গত দুই দিনে চর বিদ্যানন্দ ও চর তৈয়বখাঁ এলাকায় প্রায় ২০টি বাড়ি নদীতে চলে গেছে। প্রতিদিন নতুন নতুন জায়গায় ভাঙন দেখা দেওয়ায় মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

তৈয়বখাঁ গ্রামের বাসিন্দা আজগার আলী বলেন, এর আগেও একবার নদী ভাঙনে তার বসতভিটা বিলীন হয়েছিল। এবার আবারও একই পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছি। কোথাও থাকার জায়গা না পেলে পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙন শুরু হওয়ার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে ক্ষতি কমানো সম্ভব হতো। এখন জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও অনেক জায়গায় তা নদীর স্রোতে ভেসে যাচ্ছে।

চর বিদ্যানন্দ গ্রামের আব্দুল জলিল বলেন, পূর্বচর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মসজিদ ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিদ্যালয়টি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এলাকার শিশুদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, “যখন জিও ব্যাগ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল, তখন দেওয়া হয়নি। এখন নদী ভাঙন শুরু হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, ইউনিয়নের প্রায় তিন শতাধিক বাড়িঘর বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

একই এলাকার বাসিন্দা আকলিমা বেগম (৬০) বলেন, নদী যেভাবে ভাঙছে তাতে তাদের বাড়িও যেকোনো সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, “বাড়ি চলে গেলে কোথায় থাকব, কোথায় যাব-তা বুঝতে পারছি না। আমাদের দেখার যেন কেউ নেই।”

এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম জানান, তিনি ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন। নদী ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ত্রাণ সহায়তা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তিস্তার ভাঙন থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষা পেতে দ্রুত ও কার্যকর বাঁধ নির্মাণসহ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া জরুরি। অন্যথায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নতুন করে ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় থাকতে হবে নদীপাড়ের মানুষকে।

ভিওডি বাংলা/প্রহলাদ মন্ডল সৈকত/জা 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: ভিওডি বাংলা
গুরুধামে নদীভাঙন এলাকা পরিদর্শনে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার
ছবি: ভিওডি বাংলা
ময়লার স্তূপ সরানোর দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মানববন্ধন
ছবি: ভিওডি বাংলা
রাজাপুরে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, স্বর্ণালঙ্কারসহ ১০ লাখ টাকা লুট