• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

কোমল পানীয়তে চেতনানাশক মিশিয়ে স্ত্রীকে হত্যা, অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে

রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি    ১৭ জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা
ছবি: ভিওডি বাংলা

মাদারীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে ল্যামিয়া আক্তার (২০) নামের এক গৃহবধূর মুখে কোমল পানীয়র সাথে চেতনানাশক বা তীব্র মাত্রার ঘুমের ওষুধ তুলে দিয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে তার ইতালি প্রবাসী স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এতে মাত্র ৫ মাস বয়সী একটি অবুজ শিশু চিরতরে মাতৃহারা হলো।  ১৫ জুলাই (বুধবার) দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী আরিফ বেপারী (৩০) হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছেন। 

নিহত লামিয়া আক্তার রাজৈর উপজেলার হাসানকান্দি গ্রামের বাশার শেখের মেয়ে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত আরিফ বেপারী মাদারীপুর সদর উপজেলার নতুন রাজারহাট গ্রামের বাসিন্দা।

সাংবাদিকদের হাতে চাঞ্চল্যকর অডিও রেকর্ড: এদিকে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে আরিফের বোনদের সরাসরি উসকানি ও নতুন বিয়ের চক্রান্তের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ও প্রমাণ সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। আরিফের বোন রিংকি তাদের পাঁচ বোনের পক্ষ থেকে আরিফের মোবাইলে একটি অডিও ভয়েস মেসেজ পাঠিয়েছিলেন। সেই ভয়েস রেকর্ডে রিংকি আরিফকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি যাকে বিয়ে করছেন তার ভার-বুদ্ধি নাই, হাসি-খুশি না।

একই সাথে রিংকি জানান যে তাদের মামা আরিফের জন্য নতুন একটি মেয়ে দেখেছেন এবং সেই মেয়ের ছবিও পাঠিয়েছেন। অডিওর শেষপর্যায়ে পাঁচ বোনের পক্ষ থেকে চরম হুমকি দিয়ে আরিফকে বলা হয়, লামিয়াকে ছাড়েন, তা নাহলে আমাদের পাঁচ বোনকে হারাবেন।

এই অডিও রেকর্ডটি এখন এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম বড় ক্লু হিসেবে দেখা হচ্ছে। পারিবারিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের বিবরণ: পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বাড়িতে স্ত্রী লামিয়ার সাথে স্বামী আরিফের প্রচণ্ড ঝগড়া হয়।

বোনদের এমন উসকানির জেরেই মূলত ঝগড়ার একপর্যায়ে আরিফ বেপারী, তার চার বোন, খালা শাশুড়ি, মামাশ্বশুর, নানী শাশুড়ি এবং শ্বশুর মিলে লামিয়ার ওপর নারকীয় শারীরিক নির্যাতন চালায়। মারধরের পর কৌশলে লামিয়াকে কোকাকোলার সাথে চেতনানাশক বা তীব্র মাত্রার ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে দেওয়া হয়। বিষাক্ত সেই পানীয় পানের পরপরই লামিয়া জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

মূর্ছিত অবস্থায় তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাময়িকভাবে লামিয়ার জ্ঞান ফিরলে তিনি মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তার মায়ের কাছে শ্বশুরবাড়ির নির্মমতার বিবরণ দেন।

মৃত্যুর আগে মায়ের উদ্দেশ্যে লামিয়া বলেন, আমাকে কোকাকোলার সাথে কিছু মিশিয়ে খাইয়েছে, তারপর আমার আর কিছু মনে নেই।

এর কিছুক্ষণ পরেই ল্যামিয়ার অবস্থার অবনতি হয় এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

অভিযোগ উঠেছে, স্ত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পরপরই ঘাতক স্বামী আরিফ বেপারী হাসপাতালের বিল পরিশোধ না করেই কৌশলে পালিয়ে যান। পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি নিহত লামিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন, যাতে কোনো তথ্য বা প্রমাণ না থাকে।

৫ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুকে রেখে লামিয়ার এমন করুণ মৃত্যুর পর তার পরিবারে চরম শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আরিফ ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত লামিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং বোন রিংকিসহ ঘাতক আরিফ ও জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/এস এম মেহেদী হাসান/জা 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণাঞ্চলের ৯ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল
ছবি: ভিওডি বাংলা
নিজ বসতঘরে আগুন, অস্ত্র হাতে যুবকের তাণ্ডব
ছবি: সংগৃহীত
নবাবগঞ্জে কৃষক কার্ড বিতরণে তথ্য সংগ্রহের উদ্বোধন