আশুলিয়ায় ডিবি লেখা জ্যাকেট পরে ডাকাতি, গ্রেপ্তার ৯

ঢাকার আশুলিয়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাতচক্রের কথিত সরদারসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি-উত্তর)। এ সময় একটি নোহা মাইক্রোবাস, ডিবি লেখা জ্যাকেট, হ্যান্ডকাফ, খেলনা পিস্তল, ইলেকট্রিক শক মেশিন, ধারালো অস্ত্রসহ ডাকাতির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের নির্দেশনায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ডিবি (উত্তর)-এর অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত ৯টা ৫ মিনিটে আশুলিয়া থানার নবীনগর জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে জয় রেস্তোরাঁর পার্কিং এলাকায় অভিযান চালায়। সেখানে ডাকাতির প্রস্তুতি চলাকালে আন্তঃজেলা ডাকাতচক্রের নয় সদস্যকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-শামীম রেজা (৩০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৫০), রাশেদ (৩৮), পলাশ শেখ ওরফে আপন ওরফে আফজাল (৩৮), কামাল হোসেন (৪৫), সোহাগ ওরফে আব্দুল্লাহ (৪২), কামরুল হোসেন (৫৪), মনিরুল ইসলাম (৪০) এবং রাসেল (৩৫)। তাদের মধ্যে কয়েকজনের স্থায়ী বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায় হলেও তারা ঢাকার আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানকালে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে একটি নীল রঙের স্কয়ার নোহা গাড়ি, তিনটি ডিবি লেখা কটি, একটি হ্যান্ডকাফ, দু’টি খেলনা পিস্তল, দুটি ইলেকট্রিক শক মেশিন, তিনটি স্টিলের ধারালো সুইচ গিয়ার এবং একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের দাবি, এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ চক্রটি নিজেদের কখনও ডিবি, কখনও র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি চালিয়ে আসছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা এমন তথ্য স্বীকার করেছেন বলেও জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা জেলা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ডাকাতি, মাদক, ছিনতাই ও বিশেষ আইনের একাধিক মামলা রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, শামীম রেজার বিরুদ্ধে দু’টি ডাকাতি মামলা রয়েছে। জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে পাঁচটি ডাকাতি মামলা, রাশেদের বিরুদ্ধে চারটি ডাকাতি ও তিনটি অন্যান্য মামলাসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া পলাশ শেখ ওরফে আপনের বিরুদ্ধে পাঁচটি ডাকাতি ও একটি অন্যান্য মামলাসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মাদক ও একটি বিশেষ আইনের মামলা, সোহাগ ওরফে আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে দু’টি মাদক মামলা, একটি ডাকাতির প্রস্তুতি এবং একটি ছিনতাই মামলা রয়েছে। কামরুল হোসেনের বিরুদ্ধেও ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে ঢাকা জেলা পুলিশ জানিয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য