জুয়ার আসরে নেইমার!

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়েছে মাত্র এক সপ্তাহের কিছু বেশি সময়। বিদায়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় নেইমার বলেছিলেন, ব্রাজিলের হয়ে সেটিই হয়তো ছিল তার শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থক তখনও বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
কিন্তু সেই আবহের মধ্যেই লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড সিরিজ অব পোকার (WSOP)-এর জুয়ার টুর্নামেন্টে অংশ নিতে দেখা যায় ব্রাজিলের এই সুপারস্টারকে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নেইমার ১০ হাজার মার্কিন ডলার বাই-ইন পরিশোধ করেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ২,২২৭ জন প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি ৪৯তম স্থান অর্জন করেন। এতে তার প্রাইজমানি হিসেবে আসে প্রায় ৪ হাজার মার্কিন ডলার।
ঘটনাটি সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর যখন ব্রাজিল ফুটবল কঠিন সময় পার করছে, তখন দলের সবচেয়ে বড় তারকার এমন কর্মকাণ্ড কতটা ইতিবাচক বার্তা দেয়?
নেইমারের ক্যারিয়ার বরাবরই ছিল প্রতিভা, সাফল্য, চোট এবং বিতর্কের মিশেল। অসাধারণ দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিনের ইনজুরি, মাঠের বাইরের নানা কর্মকাণ্ড এবং বিতর্কের কারণে তিনি অনেক সময়ই নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেননি বলে মনে করেন ফুটবল বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ।
একসময় ধারণা করা হতো, লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে প্রভাবশালী মুখ হবেন নেইমার। কিন্তু সেই সম্ভাবনার পুরোটা বাস্তবে রূপ নেয়নি। আজও অনেকের কাছে এটি বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় ‘যদি’।
ব্রাজিলও দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে ফিরছে তাদের হারিয়ে যাওয়া আধিপত্য। অনেকের মতে, দেশের ফুটবলের অবনতির পেছনে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, মাঠের বাইরের সংস্কৃতি, পেশাদারিত্বের ঘাটতি এবং তারকাদের জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্বকাপের বিদায়ের রেশ কাটার আগেই জুয়ার টেবিলে নেইমারের উপস্থিতি তাই আবারও সেই পুরোনো বিতর্ককে সামনে নিয়ে এসেছে—অসাধারণ প্রতিভার এই ফুটবলার কি সত্যিই নিজের সম্ভাবনার পূর্ণতা দিতে পেরেছেন, নাকি মাঠের বাইরের সিদ্ধান্তগুলোই বারবার তাকে পিছিয়ে দিয়েছে?
ভিওডি বাংলা/বিন্দু








মন্তব্য