ঘোষণা আছে বাস্তবায়ন নেই, হকারদের দখলেই রাজধানীর ফুটপাত

রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি বারবার এসেছে। হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থান, নিবন্ধন, লাইসেন্স এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার নানা পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। তবে বাস্তবে সেই পরিকল্পনার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। রাজধানীর অধিকাংশ ফুটপাত এখনো হকারদের দখলে থাকায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারীরা।
গুলিস্তান, নিউমার্কেট, মিরপুর, বায়তুল মোকাররম, মতিঝিলসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতে এখনো অবাধে বসছে হকারদের দোকান। কোথাও আবার হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থানই ব্যবহৃত হচ্ছে গাড়ি পার্কিংয়ের কাজে। ফলে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ না পেয়ে অনেককে বাধ্য হয়ে ব্যস্ত সড়কে নেমে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে জনদুর্ভোগও।
গুলিস্তানে হকারদের জন্য নির্ধারিত একটি সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক যানবাহন। অন্যদিকে আশপাশের ফুটপাতজুড়ে বসেছে অস্থায়ী দোকান। এতে পথচারীদের চলাচলের জায়গা অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
একই চিত্র নিউমার্কেট, বায়তুল মোকাররম ও মিরপুর এলাকাতেও। এসব এলাকায় হকার উচ্ছেদ কিংবা পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গুলিস্তান দিয়ে হেঁটে যাওয়া পথচারী রাকিব বলেন, সিটি করপোরেশনের ঘোষণায় আমরা আশাবাদী হয়েছিলাম। বলা হয়েছিল ফুটপাত দখলমুক্ত হবে, মানুষ নিরাপদে হাঁটতে পারবে। কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখনো ফুটপাতের বেশিরভাগ অংশ হকারদের দখলে, কোথাও আবার গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে চলাচলের সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন বাধ্য হয়ে সড়কে নেমে চলাচল করতে হয়, যা জীবনের জন্য বড় ঝুঁকি। আমরা আর আশ্বাস নয়, বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চাই। ফুটপাত যেন সত্যিকার অর্থেই পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।
তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলছেন, ঈদ উপলক্ষে কিছুদিন নিয়ম শিথিল করা হয়েছিল। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ফি নির্ধারণের অনুমোদন দিলে হকার ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম আবারও শুরু করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা হকারদের নিয়ন্ত্রণে আনতে চাই। তাদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে, ভ্যানের লাইসেন্স দেওয়া হবে। এজন্য ফি নির্ধারণের বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলেই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, ঈদের পরও ফুটপাত ও সড়কের অবৈধ দখল উচ্ছেদে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। মতিঝিল, কাকরাইল, ফকিরাপুলসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযানে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে যেসব এলাকায় হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থান, নিবন্ধন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, সেখানে এখনো কার্যকর কোনো বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। ফলে ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘোষণা ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়ে গেছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, আশ্বাসের পরিবর্তে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য